টেনশনে নৌকার প্রার্থী মঞ্জু, ফুরফুরে মেজাজে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহারাজ

কাউখালী প্রতিনিধি(পিরোজপুর) ।
আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ (কাউখালী-ভান্ডারিয়া-নেছারাবাদ) আসনে ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে ১৪ দলীয় জোটের মনোনীত নৌকা প্রতীকে জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দীন মহারাজ ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাকী ৫ জন প্রার্থীদের চিনেন না বলে জানিয়েছেন এ আসনের ভোটাররা।

সরেজমিনে ঘুরে এবং ভোটারদের সাথে কথাবলে জানাগেছে, বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এ আসনটি মঞ্জু কে ছেড়ে দেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় তিনি সহজেই নির্বচিত হয়েছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের শরীক হয়ে নৌকা প্রতীক পেয়েও নিজ দলের সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক। সম্প্রতি কাউখালী উপজেলা জেপি সভাপতি, সহ সভাপতি সহ নেতাকর্মী বেশিরভাগই জেপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করায়, জনপ্রিয়তায় ধ্বস, আওয়ামীলীগ দলীয় নেতা-কর্মী বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। ফলে ৩২ বছরের রাজনীতির হিসাব নিকাশে নতুন প্রজন্মের স্মাট বাংলাদেশ গঠনে পরিবর্তনের হাওয়ায় কিছুটা হলেও টেনশনে রয়েছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এ ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি পিরোজপুরে ৩২ বছর ধরে রাজনীতি করি। এলাকার অনেক দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছি।তাই এ আসনের মানুষ আমার বাইরে যাবে কেন? আমার বিশ্বাস ভোটাররা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।

এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাইকে মনোনয়ন দিতে না পারায় স্বতন্ত্র-ডামি প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনকে গণমুখী ও উৎসবমুখর করতে আহবান জানান। তারই ধারাবাহিকতায় এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঈগল প্রতীকে নির্বাচন করছেন মহিউদ্দীন মহারাজ।

কাউখালী-ভান্ডারিয়া-নেছারাবাদ ৩টি উপজেলার প্রায় শতভাগ বর্তমান এবং সাবেক জনপ্রতিনিধি, আওয়ামীলীগের অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সিংহভাগ এবং যুবসমাজকে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে ঈগল প্রতীকের পক্ষে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ দলীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, দলীয় প্রার্থী এ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় নেতা-কর্মীরা এটা মেনে নিতে পারছেন না, বিধায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রার্থীর প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন। ফলে হেভিওয়েট এ প্রার্থী বিপুল পরিমাণ জনসমর্থন নিয়ে রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। মহারাজ বলেন, এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ৭ জানুয়ারী উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমাকে ঈগল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে বলে আমার বিশ্বাস।