‘ডাকাতের মেয়েকে দিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে’

কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি।।
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. এমাদুল হক মনিরকে ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে দাবি করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগষ্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান মো. এমাদুল হক মনির বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সততার সাথে আমি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। এরমধ্যে আট মাস ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এ্যাডভোকেট ফজলুল হক ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে দক্ষতার মাধ্যমে দলকে সু-সংগঠিত করেছেন। এছাড়াও তিনি (ফজলুল হক) অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সাথে কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদের একজন সফল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৯৭৯ ও ১৯৮৬ সালে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে নির্বাচন করেছেন।

তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও এলাকার উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে চক্রটি আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রের অংশহিসেবে এবার আমুয়া ইউনিয়নের এক চিহ্নিত ডাকাতের মেয়েকে দিয়ে আমাকে সমাজে হেয়-প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করিয়েছে। যার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। আমি ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি। পাশাপাশি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বিভিন্ন সংবাদের সূত্রের বরাত দিয়ে মনির বলেন, মামলার এজাহারে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ১ আগস্ট পর্যন্ত ওই নারীকে ধর্ষনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সর্বশেষ ১ আগস্ট ওই নারীর সাথে আমার দেখা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ১ আগস্ট আমি আমার স্ত্রীর বাবার বাড়ি অর্থাৎ শশুর বাড়ি ঢাকার শনিরআখরাতে ঈদ উদযাপন করি এবং গত ২০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকাতে অবস্থান করেছি।

প্রশ্ন রেখে এমাদুল হক মনির বলেন, শুধু আমি নয়; কোন ব্যাক্তি যদি একটি মেয়েকে তিনবছর যাবত ধর্ষন করে তাহলে এই তিন বছরে মেয়েটি কোন অভিযোগ করেনি কেন? পাশাপাশি চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি আমি বিবাহ করি, সে সময়ও মেয়েটি কোন অভিযোগ করেনি কেন। এমনকি মামলার বাদি ওই মেয়েটি সাংবাদিকদের কাছে বলেছে, সে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাশ করে চাকরির জন্য আমার কাছে এসেছে। যাহা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। বর্তমানে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ওই মেয়েটি আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এইচএসসি মানবিক শাখায় অংশগ্রহন করে অকৃতকার্য হয়েছে। অথচ বলা হয়েছে সে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাশ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই মেয়েটির সাথে আমার যে ছবিটি প্রকাশ পেয়েছে তা একটি সালিশ বৈঠক শেষে স্থানীয় অসংখ্য গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মায়ের সাথে উপস্থিত ওই মেয়েটি আমার সাথে ছবি তোলার দাবি করেন। তখন আমি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। বিধায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তখন আমি আপত্তি করতে পারিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরুন কুমার কর্মকার, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খসরু নোমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান উজির সিকদার, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামান বদু সিকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খানমসহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।