তাবিজ-কবজে জীবিকা

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।
শত কষ্টের মাঝেও বেদে সম্প্রদায়েরা তাদের বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জিবন-যাপন করে আসছে। তারা দু’মুঠো খাবারের জন্য লড়াই সংগ্রাম করে দিন কাটাচ্ছে। বেদে সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো বছরে ৬ মাস পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে দিনের পর দিন পার করছে। এক সময় বেদে সম্প্রদায়ের মানুষগুলো নদীপথে নৌকায় করে আসত। এখন স্থল পথে বিভিন্ন যানবাহনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যান।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খড়িয়া গ্রাম থেকে ৭০টি বেদে পরিবার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে বসবাস করছে। মঙ্গলবার (২অক্টোবর) সকালে তাদের ভাসমান বসবাসের স্থানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি পরিবারে ৪ থেকে ৬ জন শিশু নারীসহ প্রায় ৪৫০ জন মানুষ বসবাস করছে।

গ্রামের নিভৃত পল্লীতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন রোগের তাবিজ-কবজ, সিংয়া লাগানো, দাঁতের পোকা তোলা, কটক মাছের কাঁটা, বাতের ব্যাথার তেল ও কড়ি-মালা বিক্রির জন্য বেড়িয়ে পরেছেন। এসব করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনো রকমের খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকেন তারা। তবে এখনকার যুগে আগের মতো তাবিজ-কবজের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে গেছে। তারপরও বাপ-দাদার পেশা যুগের পর যুগ ধরে রেখেছেন বলে জানান শামীম মাল (৩৫) ও তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩১) তারা আরও জানান সারাদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করে তা দিয়ে জীবন চলে।

বেদে সম্প্রদয়ের সর্দার আকবর আলী (৫৫) জানান এক দিকে বেঁচে থাকার লড়াই অন্যদিকে বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। স্ত্রী-সন্তান ও ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে বসবাস করে জীবন বাঁচানোর জন্য লড়াই সংগ্রাম করে যাচ্ছি। আমাদের বেদে সম্প্রদয়ের যতই দিন যাচ্ছে ততই করুন পরিণতি বাড়ছে। সরকার বিভিন্ন বিবিন্ন সুযোগ সুবিধা দিলে বেদে সম্প্রদয়ের পরিবারগুলো আরও সচ্ছল হতো। তবে দেশে-বিদেশে ঘুরেও কিছু সুখ পাওয়া যেত।