তালতলীতে স্ত্রীকে পরকীয়ায় বাঁধা দেওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

তালতলী প্রতিনিধি।।
বরগুনার তালতলীতে স্ত্রীকে পরকীয়া করতে বাঁধা দেওয়ায় স্বামী, শ্বাশুড়ী ও ননদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। ননদ জাকিয়া বেগম পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে আছেন।

মামলার সূত্র থেকে জানা যায়, সোনাকাটা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বড় আমখোলা গ্রামের আঃ খালেক খানের মেয়ে মোসাঃ মারজিয়া (২৯) তালতলী থানায় ১৪ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ এর ১১ (খ)/৩০ তৎসহ ৩২৬ দঃ বিঃ আইনে অফিসার ইনচার্জ মামলাটি রুজু করেন। ৩ জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করে। এতে ১নং আসামী স্বামী মানিক খান, ২নং আসামী শ্বাশুড়ী মোসাঃ আলেয়া বেগম, ৩নং আসামী ননদ মোসাঃ জাকিয়া বেগমকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় ঘটনার তারিখ দেখানো হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার রাত্র আনুমানিক ১১.৩০টায়। বাদী মার্জিয়া বেগম মামলায় উল্লেখ করে যৌতুক না দেওয়ায় আসামীরা তাকে চুল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানের ১২ জায়গায় গরম খুন্তির ছ্যাকা দেয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১নং আসামী মানিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় টাইল্স মিস্ত্রির কাজ করেন। ২নং আসামী মোসাঃ আলেয়া বেগম তার ছেলে মানিকের সাথে ঢাকায় বসবাস করেন। ঘটনার দিন ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার ১নং ও ২নং আসামী ঢাকায় থাকার দাবী করে প্রতিবেদকের কাছে একটি সিসি টিভির ফুটেজ পাঠান।

ভিডিও ফুটেজটিতে দেখা যায় ৮০৮ বেপারীপাড়া, মধ্য বাড্ডা, জান্নাতুল হাকিম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার সিসি টিভি ফুটেজে মামলা ঘটনার দিন বিকাল ৫.৩৪ টায় কাজ শেষ করে মানিক তার বাসার দিকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মানিকের গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী আকাব্বর আলী আকন, হারুন, সরোয়ার, নশা মিয়াসহ অনেকেই বলেন মানিক কাজ করার জন্য ঢাকায় থাকেন। মামলাটিতে যাদেরকে সাক্ষী করা হয়েছে ১নং সাক্ষী সূর্যবানু বাদীর আপন ফুফু, ২নং সাক্ষী দুলিয়া বেগম বাদীর ফুফাত ভাইয়ের স্ত্রী, ৩নং সাক্ষী বাদীর দাদার ভায়রা, ৪নং সাক্ষী বাদীর পিতা তাছাড়া সকল সাক্ষীরাই বাদীর নিকট আত্মীয়। ঘটনার দিন বা ঘটনার পরে তাকে এলাকায় দেখিনি কিংবা এ রকম কোন নির্যাতনের ঘটনা আমরা শুনিনি। তারা আরও বলেন ঘটনা ঘটলে আমরা শুনতাম এবং সাক্ষী দিতাম। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা। এছাড়াও স্থানীয়রা বলেন বাদী পরকীয়ায় আসক্ত আমরা শুনেছি। সঠিক তদন্ত করলে মামলা সত্যতায় আসামীরা নির্দোষ প্রমান হইবে বলে আমরা মনে করি।

১নং সাক্ষী সূর্যভানু প্রথমে নির্যাতনের কথা স্বীকার করলেও সিসি টিভির ফুটেজ দেখার পরে বলেন আমি অসুস্থ্য ছিলাম তাই চিৎকার শুনে ২নং সাক্ষী আমার ছেলের বউকে পাঠিয়েছে। আমি কিছুই দেখিনি। ৩নং সাক্ষী মোতাহার গাজী সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে যান।

স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাওলানা মোঃ নুরুদ্দিন বলেন আমার এলাকায় ঘটনা ঘটলে আমি জানতাম। মামলা হবার ৩/৪ পর চেয়ারম্যান সাহেবের মাধ্যমে জানতে পারি।

সোনাকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ ফরাজী বলেন এ রকম ঘটনা আমি শুনিনি। তবে মামলার ৩ দিন পরে তালতলী থানার মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরে বাদীর বাবাকে ফোন দিয়ে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে তিনি পরে জানাবেন বলে আজও জানানি। তিনি সাংবাদিককে বলেন ‘আপনারাই বিবেচনা করেন এটি কোন ধরণের মামলা’।

মামলার আসামী মানিক খান মুঠোফোনে বলেন আমি ঢাকায় টাইল্সের কাজ করি। ২নং আসামী আমার মা আমার সাথে ঢাকাই থাকেন। আমি দুরে থাকার সুযোগে আমার স্ত্রী অন্য পুরুষের প্রতি আসক্ত হয়ে পরে। আমাদের দুটি কন্যা সন্তান থাকায় আমি আমার স্ত্রীকে পরকীয়া থেকে ফিরে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে সে আমাকে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হরানী করবে বলে হুকমি দেয়। আমার স্ত্রীর পরকীয়ায় লিপ্ত থাকার কারণে কন্যা সন্তান দুইটি গ্রামের বাড়ির একটি মাদ্রাসায় রেখে লেখাপড়া করাই। যাহার সম্পূর্ণ খরচ আমি বহন করি। ঘটনার দিন ও পরের দিন আমি ঢাকা ছিলাম। যাহা আমার কর্মস্থলের বিভিন্ন সিসি টিভি ফুটেজে রেকর্ড আছে।

মামলার বাদী মোসাঃ মারজিয়া সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘর তালাবদ্ধ করে অন্যত্র চলে যান।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তালতলী থানার (এস.আই) আলী হোসেন মুঠোফোনে জানান মামলাটি তদন্তধীন আছে। সিসি টিভির ফুটেজ পেলে উপরস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।