তিন নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা বাবুগঞ্জবাসী

রফিকুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ।।
অব্যাহত নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার তীরবর্তী পরিবারের মানুষগুলো। সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এরইমধ্যেই বিলীন হয়েছে উপজেলার শত শত ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা। নিঃস্ব হয়েছে পথে বসেছে শত শত পরিবার। প্রতিনিয়তই রাত কাটাছেন ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো।

গত ১ বছর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে মোল্লার হাট বাজার, বড় মিরগঞ্জ, ছোট মিরগঞ্জ, সৈয়দ মোশারফ রাশিদা একাডেমি, আবুল কালাম কলেজ সংযোগ সড়কসহ বেশ কিছু স্থাপনা বসতবাড়িসহ আবাদি জমি দোকান ঘরসহ কয়েক একর জমি ফলদ বৃক্ষসহ নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (দোয়ারিকা) সেতু, মিরগঞ্জ বাজার মসজিদ, আবুল কালাম ডিগ্রী কলেজ, পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠি গ্রাম, চরসাধুকাঠি মাদ্রাসা, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি জাদুঘর, মরহুম আব্দুল মাজেদ হাওলাদারের বাড়ি। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার, বাজারসহ বেশকিছু সরকারি বেসরকারি সামাজিক স্থাপনা। পূর্ণিমার জোয়ারে পানি কমতে শুরু করলেও নদীতে রয়েছে প্রবল শ্রোত। যার কারণে ভাঙন ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে।

ভাঙন আতঙ্কে আতঙ্কিত এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলার শত শত পরিবার। অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে চলতি মৌসুমের প্রথম দিকে এ এলাকার বেশ কয়েকটি বসতঘরসহ আবাদি জমি গ্রাস করেছিল সুগন্ধা নদী। এরইমধ্যেই এ সব ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কিন্তু ভাঙনের অবস্থা এখন এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, প্রতিরোধ কার সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে অচিরেই ভাঙন কবলিত এলকায় প্রতিরোধে কাজ শুরু না করলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা।