দখলে বিপর্যস্ত কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত

এইচ,এম,হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। এখানে রয়েছে একই স্থান থেকে সুর্যোদয় ও সুর্যাস্ত দেখার দুর্লভ সুযোগ। সুর্যোদয় ও সুর্যাস্তের বিরল দৃশ্য অবলোকন করা যায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে। সারা বছরই পর্যটকের ভিড় থাকে কুয়াকাটায় তবে শীতকালে বনভোজন ও শিক্ষা সফরের শতাধিক দলসহ প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি বিদেশী পর্যটকের সমাগম ঘটে এখানে। কিন্তু কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পুর্বপশ্চিমে চলছে দখলের মহোৎসব। বেলা ভুমি দখল করে টিনসেড ঘর নির্মান করে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্টান। স্বার্থান্বেষী মহলের বাণিজ্যিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী আর সরকারি প্রশাসনের উদাসীনতায় কুয়াকাটা সৈকতের শূণ্য পয়েন্ট থেকে দুই দিকের দুই কিলোমিটার এলাকা বস্তিতে পরিণত হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌরসভার সরকারি তথ্যানুসারে ২০১১ সালের পরিবার সংখ্যা ২০৬৫টি। লোকসংখ্যা নয় হাজার ১৭৭ জন। যার মধ্যে ভাসমান লোকসংখ্যা ৫৩৭ জন। এসব ভাসমান লোকসংখ্যার অধিকাংশের বসবাস এ বাঁধের বাইরে। এদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ী থেকে অপরাধী। সৈকতে যাওয়ার শেষ সড়কটির পশ্চিম দিকের দোকানপাট ও বস্তি গড়ে ওঠার জন্য কয়েকজন স্থানীয় রাজনীতিক থেকে ব্যবসায়ীরা দায়ী। আর পূর্বদিকের স্থাপনা তোলার জন্য দায়ী মহিপুর তহশিল অফিস। এসব বস্তির স্থাপনার কারণে পর্যটকরা একটু স্বস্তিতে প্রকৃতির লীলাভূমি সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মতো মনোরম দৃশ্য অবলোকনে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। সৈকতের বেলাভূমে নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করতে পারেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শত শত ঝুপড়িসহ টিনের-পলিথিনের ছাপড়া দেয়া দোকানপাট বাসাবাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে কুয়াকাটার সৌন্দর্যহানি ঘটছে। পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, কুয়াকাটার সৌন্দর্যমন্ডিত এলাকায় ভ্রমণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অবৈধ এসব স্থাপনা অপসারনে নেই কোন উদ্যোগ। পটুয়াখালীর জেলা কিংবা কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে। উল্টো অভিযোগ রয়েছে মহিপুর ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব স্থাপনা গড়ে উঠছে।
কুয়াকাটা সচেতন মহলের অভিযোগ, কুয়াকাটা সৈকতের শূণ্য পয়েন্টের পশ্চিম দিকে মিরাবাড়ি পর্যন্ত এবং পূর্বদিকে জাতীয় উদ্যানের ইকোপার্ক পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরে এভাবে শত শত পলিথিনের ঝুপড়িসহ টিনের চাল দিয়ে তোলা হয়েছে স্থাপনা। বসবাসকৃত মানুষ এসব স্থাপনায় বসবাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করে আসছে।

এদের থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে পারিবারিক কাজকর্ম করছেন। সকল বর্জ্য এরই মধ্যে ফেলা হচ্ছে। কোথাও উন্মুক্ত স্থানে আবার কোথাও বালুর নিচে খনন করে ফেলা হচ্ছে। মল-মূত্র পর্যন্ত ত্যাগ করছে। এ দুই কিলোমিটারের মধ্যে খুটা জেলেরা আটকে পড়া মাছসহ জাল বেলাভূমে ফেলে রাখছে। মাছ পচে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পর্যটকরা হাঁটাচলা করতে পারছে না। ইঞ্জিন চালিত নৌকা ফেলে রাখছে। যাত্রী বাহনের নৌযানের ডিজেল পানিতে মিশছে। পর্যটকরা স্বস্তিতে মূল সৈকতে ঘোরাফেরা করতে পারে না। এসব দোকান এবং বসতঘর তোলার জন্য দোকান প্রতি ৫০-৬০ হাজার টাকা অগ্রিম জামানত এবং মাসে দুই-থেকে তিন হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে ব্যবহার করছে দোকানিরা। বহিরাগত ব্যক্তি থেকে শুরু করে মহিপুর তহশিল অফিসেও ফি মাসে টাকা দিতে হয়। এজন্য নির্দিষ্ট আদায়কারী রয়েছে। কুয়াকাটা চৌরাস্তার বেড়িবাঁধের বাইরের স্লোপ থেকে সাগরের ওয়াটার লেভেল পর্যন্ত এমনিভাবে ছাপড়া দেয়া বস্তির মতো শত শত স্থাপনা রয়েছে। একটু দুরে রয়েছে বসতঘর। এসব বসত ঘরের বারান্দায় কেউ কেউ আবাসিক হোটেল কিংবা দোকানপাট করছে।

কুয়াকাটা ভ্রমনে আসা ঢাকা থেকে মোসা. নওসিন জাহান তিনি পরিবারকে নিয়ে কুয়াকাটা ভ্রমনে এস হতাশ হয়ে বলেন, সৈকতের প্রধান অংশে বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে তোলা হয়েছে রকমারি দোকানপাট এতে প্রতিদিন অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে সৈকত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশাল বিভাগয়ি সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, কুয়াকাটা বিচে কোনো অবস্থাতেই লাগোয়া দোকানপাট থাকা আইনুসারে অবৈধ। কুয়াকাটাকে আপডেট করতে হলে বিচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির দায়িত্ব গুলো সঠিকভাবে পালন করতে হবে। সৈকতে কোনো দোকানপাট থাকতে পারবেনা।
কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর অ্যাসেসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, নিশত্রিুও বিচ কমিটির আন্তরিকতার না থাকায়। তার অভিযোগ, সৈকত লাগোয়া দোকানিরা ময়লা-আবর্জনা সৈকতে ফেলেছেন। এ কারনে পর্যটকরা আকৃষ্ট হারাচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, সৈকতে কোনো অবৈধ ঘর তোলা হলে সে গুলো উচ্ছেদ করা হবে।