দেশের আলোচিত ১০ লঞ্চ দুর্ঘটনা এবং শত শত স্বজন হারাদের কান্না

রূপালী ডেস্ক।।
নদীমাতৃক এই দেশে ৬৪ জেলার সঙ্গে কোন না কোনভাবে ছোট-বড় নদীর সংযোগ রয়েছে। আর ভৌগোলিক কারণে দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌপথ। আর নৌপথের যাতায়াতও আরামদায়ক। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যান্ত্রিক ত্রুটি, মুখোমুখি সংঘর্ষ ও চালকের অসাবধানতাসহ বিভিন্ন কারণে মাঝে মধ্যে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ঘটে প্রাণহানী। সর্বশেষ সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর শ্যামবাজার বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় কমপক্ষে ৫০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। এতে কমপক্ষে নিহত হয়েছেন ৩৬ জন।

দেশের আলোচিত ও ভয়াবহ ১০ লঞ্চ দুর্ঘটা সম্পর্কে জানি:
৩ লঞ্চডুবি: ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীর ওয়াপদা চেয়ারম্যান ঘাটের টার্মিনালে তীব্র স্রোতে ডুবে যায় তিনটি লঞ্চ। এতে একই পরিবারের তিন জনসহ লঞ্চ স্টাফ ও যাত্রীসহ ২২ জন লোক ছিল।

এম ভি মিরাজ: ২০১৪ সালের ১৫ মে মুন্সীগঞ্জের কাছে মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মিরাজ-৪ ডুবে যাওয়ার পর অন্তত ২২ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুশ’র বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ঢাকা থেকে শরীয়তপুরের সুরেশ্বরের দিকে যাচ্ছিল।

পিনাক: ২০১৪ সালের ০৪ আগস্ট পদ্মায় স্মরণকালের ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় পিনাক-৬ নামের একটি লঞ্চ। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ২১ জনকে শিবচর পৌর কবরস্থানে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়।

এমভি কোকো-৪: ২০০৯ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকা থেকে ভোলার লালমোহনগামী এমভি কোকো-৪ নাজিরপুর ঘাটের কাছাকাছি এসে নিমজ্জিত হয়। এতে ৮৩ জন যাত্রী মারা যান। দুর্ঘটনার ৫ দিন পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তম লঞ্চ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ফিরে যায়।

এমএল শাহ পরাণ: ২০০৬ সালে মেঘনা সেতুর কাছে ‘এমএল শাহ পরাণ’ লঞ্চ দুর্ঘটনায় ১৯ জন মারা যায়।

এমভি লাইটিং সান: ২০০৪ সালের ২২ মে আনন্দ বাজারে ‘এমভি লাইটিং সান’ লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৮১ জন এবং ও ‘এমভি দিগন্ত’ ডুবির ঘটনায় শতাধিক যাত্রীর মৃত্যু ঘটে। এ ছাড়া ভৈরবের মেঘনা নদীতে এমএল মজলিসপুর ডুবে ৯০ জনের মৃত্যু হয়।

এমভি নাসরিন: ২০০৩ সালের ৮ জুলাই ঢাকা থেকে লালমোহনগামী ‘এমভি নাসরিন-১’ চাঁদপুরের ডাকাতিয়া এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালবোঝাইয়ের কারণে পানির তোড়ে তলা ফেঁটে যায়। এতে প্রায় ২ হাজারের বেশি যাত্রীসহ এটি ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনায় ১২৮ পরিবারের প্রধানসহ সরকারিভাবে ৬৪১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু বেসরকারি হিসেবে লাশ উদ্ধার করা হয় প্রায় ৮০০।

এমভি সালাউদ্দিন: ২০০২ সালের ৩ মে চাঁদপুরের ষাটনল সংলগ্ন মেঘনায় ডুবে যায় সালাহউদ্দিন-২ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চ। ওই দুর্ঘটনায় ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার ৩৬৩ যাত্রী মারা যান।

এমভি রাজহংসী: ২০০০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঈদুল আজহার রাতে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল এলাকায় মেঘনা নদীতে ‘এমভি জলকপোত’ ও ‘এমভি রাজহংসী’ নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণ হারায় রাজহংসীর ১৬২ যাত্রী।