ধর্ষিতা নারী সকালে দিলেন একরকম বক্তব্য, বিকেলে আরেক

গৌরনদী প্রতিনিধি (বরিশাল)।।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাগুরা-মাদারীপুর এলাকার তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার সকালে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন এক ধর্ষিতা নারী (৫০)। একইদিন বিকেলে ঘটনার সাথে ওই তিনজন জড়িত নয় দাবী করে অন্য তিনজনকে চিহ্নিত করেছে ভুক্তভোগি নারী। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক সন্তানের জননী ভুক্তভোগি নারী মোকসেদপুর উপজেলার ফুলেরপাড় এলাকার বাসিন্দা এবং রাজধানী ঢাকার মিরপুরে বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন বলে দাবী করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভুরঘাটা এলাকায় বসে ওই নারী দাবী করেন, মঙ্গলবার (০৫ সেপ্টেম্বর) মাগুরা-মাদারীপুর এলাকার পূর্ব পরিচিত হেলাল নামের এক ব্যক্তি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে হেলালের সাথে ইচ্ছাকৃত ভাবে দৈহিক সম্পর্ক করলেও বুধবার রাতে অন্য দুই ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। পরে সে গৌরনদী থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। একইদিন দুপুরে থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ধর্ষককে চিহ্নিত করার জন্য ওই নারীকে নিয়ে মাগুরা-মাদারীপুর এলাকায় যান। এসময় হেলালকে ওই নারীর মুখোমুখি করা হয়। সে (ভুক্তভোগি) এই হেলালকে চিনেননা বলে জানিয়ে পুলিশি জেরার মুখে বলেন, একটি পারিবারিক বিরোধ মিট করার জন্য মানিক নামের এক ব্যক্তি তাকে বুধবার রাতে ঢাকা থেকে নিয়ে এসেছিলো। পরবর্তীতে রাতে তাকে একাধিক ব্যক্তি জোরপূর্বক ধর্ষন করে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে হেলালের নাম বলতে বলেছেন। সে এই এলাকায় নতুন হওয়ায় জায়গা চিনতে পারেননি।

এ বিষয়ে হেলাল বলেন, ওই নারীকে আমি চিনিনা এবং কোনদিন দেখিও নাই। আমার প্রতিপক্ষ ইদ্রিস হাওলাদার ও তার সহযোগীরা এই ঘটনা ঘটিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। যা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে বসে স্বীকার করেছে ওই নারী।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, একটি মামলার জামিন নেওয়ার জন্য গত ছয়দিন যাবত আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। ওই নারীকে দিয়ে আমাকে এবং আমার লোকজনকে ফাঁসিয়ে এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা চলছে। এঘটনায় তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি দাবী করেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি ডাসার থানা এলাকায় বসে সংঘঠিত হওয়ায় নির্যাতিতা নারীকে ডাসার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ডাসার থানার ওসি মো. হাসানুজ্জামান বলেন, এঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।