ধর্ষীতা কিশোরী হলেন কণ্যা সন্তানের জননী, বাবা হচ্ছে না সাহেল খান!

শামীম তালুকদার, সুনামগঞ্জ।।
সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাওঁ ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ গ্রামে লম্পট প্রেমিক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন বিভিন্ন জায়গাতে নিয়ে ধর্ষণের ফলে এক কিশোরী কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে। ওই কিশোরী উপজেলার ঠাকুরভোগ গ্রামের হতদরিদ্র এক দিনমুজুরের মেয়ে। স্বামীর অধিকার ও সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাতিতে সমাজের মানুষজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বুধবার (২১ অক্টোবর) ওই কিশোরী বাদি হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সাহেল খান (২৫)সহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সাহেল খান একই গ্রামের মৃত. ইসলাম খাঁনে ছেলে। অন্যান্য অভিযুক্তরা হলো. মোছা. ছালেমা খানম, মো. সেলিম খাঁন ও মো. রাহেল খাঁন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তারা দুজন একই গ্রামের বাসিন্দা। এর সুবাদে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল অভিযুক্ত সাহেল খাঁন। ওই কিশোরী বার বার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেও অবশেষে সুচতুর সাহেল খানের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হন। পরবর্তীতেঁ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লম্পট একই সালের ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল গ্রামের সহজ সরল ওই কিশোরীকে গোপনে ঢাকায় গাজীপুরে নিয়ে যান। সেখানে একটি বাসায় আটকে রেখে কিশোরীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাসের পর মাস জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। কিশোরী অন্তসত্তা হওয়ার পর বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে সাহেলসহ তার স্বজনরা বিভিন্নভাবে মেয়েটিকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।

২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে ঢাকা গাজীপুরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করার পর সেখানে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তিনদিন ক্লিনিকে থাকার পর নবজাতক কন্যা শিশু নিয়ে সাহেল খাঁন তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরভোগে পিতা মাতার কাছে আসেন। এ সময় সাহেলের পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে গ্রহন না করে উল্টো তাকে শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। বর্তমানে নবজাতক মেয়ে শিশুটির বয়স ১০মাস অতিবাহিত হলেও প্রতারক স্বামী ওই কিশোরীকে স্ত্রী ও নবজাত শিশুকে অস্বীকার করে আসছে।

বর্তমানে ১০মাসের শিশু সন্তান তানিসকে নিয়ে কিশোরী বাড়ি ছাড়া হয়ে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ ব্যপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কাজি মোক্তাদির হোসেন চৌধুরী অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।