ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বারদের তোপের মুখে বেকাদায় হাতপাখায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান

কুয়াকাটা প্রতিনিধি॥
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যদের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম। ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন সদস্য একাত্রিত হয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে ১০ জুন সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তবে এসকল অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম ও ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের ২০২২ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনয়ন পেয়ে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন হাফেজ আব্দুর রহিম। অল্প সময়ের মধ্যে গোটা ইউনিয়নের তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। তার ন্যায়পরায়ন শাসন ব্যবস্থা এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। তার বিচার ব্যবস্থা এবং সরকারি ত্রাণ বণ্টন ও বিতরণে সাধারণ মানুষ খুশি হলেও ইউপি সদস্যদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ। ইউপি সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গত ১০ জুন কলাপাড়া প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এসময় ০১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ নুর উদ্দিন দালাল ও ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা মোসাঃ নাজমুন নাহার ছাড়া সকলে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ কবিরুল ইসলাম খলিফা। লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুনীর্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মনগড়া দাবি করছেন চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম। সরেজমিনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বারদের আনিত অভিযোগ মানতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি মেম্বাররা সরকারি ত্রাণ বণ্টন, নামে বেনামে বিতরণ ও অনিয়ম করতে না পেরে চেয়ারম্যানকে বেকায়দায় ফালানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার একটি ভিডিও স্থানীয় অনলাইন নিউজপোর্টাল আপন নিউজের ফেসবুক পেইজে আপলোড করা হয়। ভিডিওটি ১৫ জুন রাত ৯.১৭ মিনিট পর্যন্ত ২৩ হাজার ভিউ হয়েছে। ১২৬ জন শেয়ার করেছেন। ৯৭৮ জন মানুষ কমেন্ট করেছেন। কমেন্টবক্সে প্রায় সকলেই চেয়ারম্যানকে অত্যন্ত ভাল মানুষ দাবি করে মেম্বারদের বিরুদ্ধে মতামত ব্যক্ত করেছেন।

সরেজমিনে আঃ কুদ্দস নামের এক ভ্যান চালক বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান অত্যন্ত ভাল মানুষ। তার টাকা পয়সার কোন লোভ নেই। তিনি কোন অনিয়ম করেন না, মেম্বাররা অনিয়ম করলে তিনি প্রতিবাদ করেন। আঃ কুদ্দুসের সাথে যখন কথা হয় তখন সেখানে অন্তত ২০-২৫ জন মানুষ ছিলেন। তারা সকলেই কুদ্দুসের কথায় সায় দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, মেম্বাররা ইউনিয়ন পরিষদ গোডাউন ভবন হতে সামনের পাকা রাস্তা পর্যন্ত এলজিইডি’র নির্মিত অব্যবহৃত লোহার ব্রিজের মালামাল ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রয় করে আত্মসাৎ করা অভিযোগ করেছেন। প্রকৃত সত্য হলো-অকেজো কিছু লোহা ছিলো। ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মসজিদ কমিটির অনুরোধে ১৮ হাজার টাকা বিক্রয় করে মসজিদে দিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী আকবর কিনেছেন। পরিষদের আশেপাশের গাছের দুই মণ আম ৪ হাজার ২ শত টাকায় বিক্রয় করে মসজিদ নিয়েছে। মেম্বাররা অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, নির্বাচনে ইউপি সদস্যরা ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে নির্বাচিত হয়েছেন। আর চেয়ারম্যান এক লাখ টাকাও খরচ করেননি। যার কারণে মেম্বাররা চেয়ারম্যানের নিকট থেকে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা না পেয়ে এমন কাণ্ড করছেন।

৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জসিম খন্দকার বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের সাথে সমন্বয় করছেন না। যার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা মোসাঃ কুলসুম বলেন, তিনি কোন কাজে আমাদের সাথে পরামর্শ করেন না। তার ইচ্ছানুযায়ী কাজ করেন। যার কারণে আমরা সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি। ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ছিদ্দিক হাওলাদার বলেন, সব কাজে তিনি স্বেচ্ছাচারীতা করছেন। আমাদের কোন বিষয়ে অবগত করছেন না।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ শ্রমিকদের মাধ্যমে করার কথা থাকলেও বেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দ্বারা কাজ করেছেন। জেলেদের ৮০ কেজি চালের পরিবর্তে ৬০ কেজি করে তারা বিতরণ করেছেন। এতে আমি বাঁধা দিয়েছি। এছাড়া জেলে তালিকাভুক্ত প্রবাসে থাকা ও মারা যাওয়া ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি। বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারছেন না। ইউপি সদস্যরা নানা অনিয়ম করছে এবং করতে চান। আমি নীতি নৈতিকতার জায়গা থেকে সেটা মেনে না নেয়ায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তারা আমার বিরুদ্ধে যেসকল অনিয়ম ও দুনীর্তির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তা উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করুক। অভিযোগ প্রমাণ হলে যে বিচার হবে তা মেনে নিবো।

এ প্রসঙ্গে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মূলত তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এমনটা হয়েছে। চলমান সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকজন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আশা করছি এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ইউপি সদস্যদের অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।