নবজাতকের জন্ডিস: কি করতে পারি

ডাঃ মোঃ আলী হাসান।।
শিশুর জন্মের দুই চারদিনের মধ্যেই বাবা-মা রা যে বিষয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সেটা হলো নবজাতকের জন্ডিস। বড়দের জন্ডিস হলে এমনিতেই মানুষ ঘাবড়িয়ে যায়, সেখানে নবজাতক হলেতো কথাই নাই। তবে শুরুতেই একটা বলে রাখি প্রায় সব নবজাতকেরই কিছুনা কিছু জন্ডিস হবেই, সুতরাং এটা নিয়ে ঢালাওভাবে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।

পরিণত নবজাতকের চাইতে অপরিণত নবজাতকের জন্ডিস হওয়ার হার অনেক বেশি, সাধারণত পরিনত নবজাতকের ষাট সত্তর ভাগ আর অপরিনত নবজাতকের আশি নব্বই ভাগ এই জন্ডিসের কোন না কোন লেভেলে ভুগে থাকে। হারটা আরো একটু বাড়ে যদি জন্মের সময় বাচ্চার কোন সমস্যা হয়।

নবজাতকের জন্ডিস দুই রকম হয়ে থাকে, একটা অতি সাধারণ যার তেমন কোন চিকিৎসা লাগেনা, কিছু নিয়ম মানলেই ভাল হয়ে যায়, এবং এটাই সবচাইতে বেশি। এটাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস। অপরটাকে বলে প্যাথোলজিক্যাল জন্ডিস, যার কিছু নির্দিষ্ট কারন থাকে যেগুলোর কোনটার চিকিৎসা আছে, কোনটার নাই। তবে সুখের বিষয় হলো এদের হারটা অনেক কম।

আমরা আলোচনা করবো সবচাইতে কমন টাইপ যে জন্ডিস, সেই ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস নিয়ে। প্রথম কথা হলো এটাযে আসলেও ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস সেটা বুঝবো কিভাবে। এই জন্ডিসের কিছু কমন এবং নির্দিষ্ট উপসর্গ আছে যা দেখে প্রায় খুব সহজেই এটা চেনা যায়।
যেমন:
১. এ জন্ডিস চব্বিশ থেকে বাহাত্তর ঘন্টার মধ্যে প্রথম দেখা যায়।

২. পরবর্তি পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এটার লেভেল সবচেয়ে উপরে উঠে।

৩. দশ থেকে চৌদ্দদিনের মধ্যে পরিনত আর চৌদ্দ থেকে একুশ দিনের মধ্যে অপরিনত নবজাতকের এ জন্ডিস ভাল হয়ে যায়।

৪. এমন জন্ডিস থাকার পরও বাচ্চা সম্পুর্ন সুস্থ্য স্বাভাবিক থাকে। তার খাওয়া দাওয়া, ঘুমানো, হাত পা নাড়ানো, প্রশ্রাব পায়খানার কোন অসুবিধা হয়না।

আগেই বলেছি এটার কোন চিকিৎসা লাগে না, দশ থেকে একুশ দিনের মধ্যে এমনিতেই ভাল হয়ে যায়। তবে আমরা যা ই বলি, বাবা-মা রা খুব উদ্বিগ্ন থাকে, আমাদের কাজ হলো তাদেক আশ্বস্ত করা, ব্যাপারটা ভালমতন বুঝানো, বুকের দুধ খাওয়ানোর উৎসাহ দান করা। জন্ডিসের মাত্রা কম থাকলে সকাল আর বিকালের মিষ্টি রোদে বাচ্চাকে একঘন্টা করে রাখতে বলতে পারি, তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন বাচ্চার কোনমতেই যেন ঠান্ডা না লাগে। এত কিছুর পরেও প্রত্যেক জন্ডিসের বাচ্চাকে অন্তত একবার শিশুবিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিতে হবে যেন খারাপ কোন কারন অচিহ্নিত না থাকে। একটা কথা সবাই মনে রাখবেন জন্মের প্রথমদিন যদি জন্ডিস হয় তবে ধরে নিতে হবে এটা খারাপ, প্রয়োজনিয় চিকিৎসা লাগবে এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই তাড়াতাড়ি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।