নলছিটির মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অ্যাসাইনমেন্ট বাণিজ্যের অভিযোগ

মো. মিজানুর রহমান, নলছিটি (ঝালকাঠি)।।
ঝালকাঠির নলছিটিতে অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে হোম অ্যাসাইনমেন্টের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোড়পূর্বক অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে হোম অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়াও মসজিদের চাঁদা, কারেন্ট বিল, বেতন, সেশন ফি, পরীক্ষার ফি নিচ্ছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। করোনার মধ্যে আয় হারানো অসংখ্য পরিবার এসব টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ধার দেনা করেও অনেক অভিভাবক সন্তানের বভিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যালয়ের বেধে দেওয়া টাকা পরিশোধ করতে।

নলছিটি উপজেলার প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুবিদপুর বিজি ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খাগড়াখানা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফয়রা নেছারিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট ফি নিলেও রশিদ দিচ্ছেন বেতন আদায়ের কথা বলে।
রশিদে ১৯টি বিষয়ের বিবরণ থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোন বিষয় ছাড়াই ৭ শত থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। করোনার মধ্যে বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে, নেই পাঠদান কার্যক্রম। অথচ এসব বিদ্যালয়ে বেতনও নেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আমার কাছ থেকে ৬ শত টাকা নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানতে চাইলে তারা রশিদ ধরিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে সুবিদপুর বিজি ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার বলেন, আমরা অ্যাসাইনমেন্ট ফি নিচ্ছি না। শুধু বিদ্যুৎ বিল, বেতন,সেশন ফি ও মসজিদের চাঁদার টাকা আদায় করছি।

এ বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবক হানিফ, ফিরোজ, আজিজসহ কয়েকজন জানান, আমরা দিনমজুরি করে সংসার চালাই‌।করোনার কারনে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। এরমধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন অমানবিক চাঁদা ধার্য করায় হতাশ হয়ে পরেছি। মনে বাচ্চাদের আর পড়াতে পারবনা।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আনোয়ার আজিম বলেন, এসাইনমেন্ট নেয়ার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা আছে কোন টাকা-পয়সা নেয়া যাবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এ নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
। এ ব্যাপারে এখনো কেউ আমাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানায়নি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবো।