‘নারীদের ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা নজিরবিহীন’

রূপালী বার্তা।।
বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় উত্তর জেলা মহিলা দলের কর্মিসভায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মহিলা দলের কর্মিসভাটি পণ্ড হয়ে যায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মহিলা দলের নেত্রীরা জানান, শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার স্টিমারঘাট–সংলগ্ন শুক্কুর ব্যাপারীর বাড়ির উঠানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতিসহ অন্য নেতা-কর্মীরা শুক্কুর ব্যাপারীর বাড়ির উঠানে কর্মিসভায় অংশ নেন। বেলা পৌনে ১১টায় এ সভা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরই ৩০/৩৫ জন এসে সভাস্থলে অতর্কিতে হামলা চালায়। সভায় অংশগ্রহণকারী মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের বেধড়ক পেটান হামলাকারীরা। এ সময় চেয়ার-টেবিলও ভাঙচুর করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এই হামলায় আহতরা হলেন- মেহন্দীগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদা বেগম বিউটি, উপজেলা মহিলা দলের কর্মী হোসনে আরা, আরজু বেগম, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি শরীফ তাসলিমা, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি শায়লা শারমিন মিমু, ছাত্রদলের সাবেক নেতা নূরে আলম, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন রশিদ ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন। আহত আরও দুজনের নাম তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। তবে আহতদের মধ্যে রাশেদা বেগম, শরীফ তাসলিমা ও আমজাদ হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে অভিযোগ করে বরিশাল উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি শায়লা শারমিন মিমু বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ সভা চলছিল। এ সময় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় আমার মুঠোফোন ও গলার চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে। এমন হামলা আমি এর আগে কখনো দেখিনি।

তিনি বলেন, নারীদের ওপর এই ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা বলা যায় নজিরবিহীন। আসলে যেভাবে আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, তা বর্ণনা করার মতো না। কোনভাবেই তারা সরকারবিরোধী দলকে কথা বলতে দিচ্ছে না। সব কিছু ছাড়িয়ে এখন মহিলা দলের কর্মিসভায়ও এই অবৈধ সরকারের গুন্ডারা নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে- বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মেহন্দীগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদা বেগম বিউটি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মিসভা শুরু করি। সকাল সাড়ে ৯ টায় শুরু করে ১১ টায় শেষ করার কথা ছিল। সবকিছু ঠিকই ছিল। কর্মীরা সবাই আসছে, আর আমাদের নেত্রীরা আসতে শুরু করেছে। এমন সময় দলবল নিয়ে ওরা শ্রমিক লীগ, স্বোচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের ৩০/৩৫ জন এসে চারদিক থেকে ঘিরে হামলা শুরু করে। আমি এ সময় নেত্রীদের আগলে রাখার চেষ্টা করলে আমাকে মারধর শুরু করে। ওদের হাদে দা, রড, হকি, রামদাসহ অস্ত্র ছিলো। তিনি জানান, ওই হামলায় আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল চলে আসেন।

অভিযোগের বিষয়ে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. খোরশেদ আলম বলেন, এই হামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন। মেহেন্দীগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আছে। এই দ্বন্দ্বের জেরে এই হামলা হয়েছে।