নিহতর লাশ পেতে স্ত্রীর আর্তনাত, বাবাকে দেখতে চায় অবুঝ শিশু

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
ও আল্লাহ, ও খোদা, ও মাবুদ মোর স্বামীরে দুমুঠো খাবার যোগানোর তাগিতে ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে সব সম্ভল বিক্রি করে অর্থ অপার্জন করতে মোর স্বামীকে প্রবাসে পাঠিয়ে ছিলাম,কিন্তু তুমি এ কি হরলা,মোগো সেই আখাঙ্কার স্বপ্ন আর পূরন হরতে দেলানা আর হলোও না। মোগো হেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে সড়ক দূর্ঘনা। অসহায় স্ত্রী তার এ মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকই সৌদি প্রবাস থেকে তার স্বামীর লাশ বাংলাদেশে ফেরত আনতে দিন-রাত আর্তনাত করছেন বিধবা স্ত্রী সাবিনা আক্তার।

সাবিনা আক্তার আরো জানান,তার স্বামীর লাশ সৌদি প্রবাস থেকে বাংলাদেশ ফেরত পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের আরো দাবী বাংলাদেশ দূতাবাস যেন এ অসহায় পরিবারের দিকে তাকিয়ে নি:শ্বার্থ সহযোগী করেন এই প্রত্যাশা।

বাবা-মাকে হারিয়ে তার রয়েছে দুই সদস্যদের পরিবার স্ত্রী সাবিনা আক্তার ও পাঁচ বছরের ছেলে আবদুল্লাহ।
এ অবুঝ ছেলে আবদুল্লাহ তার বাবা না থাকার যন্ত্রনা না বুঝলেও তার বাবা মিজানুর তার জন্য বিদেশ থেকে মজা নিয়ে দেশে আসছেন এমনটাই বলে বেড়ায়।

নিহতর পরিচয়: নিহতের পূরো নাম মিজানুর রহমান ওরফে জামাল হাওলাদার। বাংলাদেশে বাড়ি বরগুনার জেলার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড গোলাঘাটা কড়ইতলা গ্রামে। সেখানকার স্থানীয় আইজুদ্দিন হাওলাদার বাড়ির মরহুম আবুল কালাম বাশার ওরফে বাহার আলী হাওলাদারের ছেলে এই নিহত মিজানুর রহমান জামাল হাওলাদার।
তিনি গত ১৮ বছর আগে সৌদি প্রবাসে গিয়েছেন। নিহত এ মিজানুর রহমান জামাল হাওলাদারের বয়স (৪৭) বছর। গত রবিবার ০৮.১০.২০২৩ খ্রি: তারিখ বাংলাদেশী সময় রাত ১০ টা ৩৭ মিনিটের সময় সৌদি আরবের মক্কার ছিত্তিন গাতা নামকস্থানে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও ৬ বছরের একজন ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সমাজসেবকের মন্তব্য: স্থানীয় বাকা বিল্লাহ মুসুল্লি জানান, ছোট বেলা থেকে জামাল হাওলাদার ছিলেন নম্র ও বিনয়ী স্বভাবের। তিনি শৈশবে তার বাবা মাকে হারিয়ে এতিম হয়েছিলেন। তেমনি জামালও তার স্ত্রীকে বিধবা ও একমাত্র অবুঝ সন্তানকে এতিম করে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আমাদের দাবী এ নিহতর লাশ যে ভাবেই হোক বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সহোযোগিতা করবেন।

স্থানীয় ইদ্রিস সিকদার জানান, জামাল হাওলাদার অত্যন্ত ধার্মিক,পরোপকারী ও খুবই ভালো মনের মানুষ ছিলেন। মহান আল্লাহপাক তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুক আমীন। আমরা তার লাশ ফেরত পাওয়ার দাবি জানাই।