নেছারাবাদে সুদের ফাঁদে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারন মানুষ

মোঃ ফয়সাল হাসান, পিরোজপুর।।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী বাজার এলাকায় চলছে জমজমাট সুদের ব্যবসায়। বিনাশ্রমে অল্প সময়ের মধ্যে লাভের আশায় অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে এ ব্যবসায়। উপজেলার যেখানেই দারিদ্র্য সেখানেই দাদনের উদারতায় সুদের জালে পড়ছেন সাধারন মানুষ। লোভনীয় অফার দিয়ে মানুষকে জড়িয়ে ফেলছে সুদের ফাঁদে যেমন, প্রতিমাসে ১০০ টাকা জমা রাখলে ৮ বছর পরে পাবেন ১৯,২০০ টাকা. ১০০০ টাকা জমা রাখলে ৮ বছর পরে পাবেন ১,৯২,০০০ টাকা এই লোনের ফাঁদে গরীর ও অসহায় মানুষদের সর্বশান্ত এবং অনেকে সুদের টাকা দিতে না পেরে বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু উপজেলা সমবায় অফিসার মো.কামরুল কে বারবার জনানো হলেও অদৃশ্য কারনে তিনি নির্বীকার রয়েছে বলে জানান, ভুক্তভোগীরা।

নেছারাবাদ উপজেলার সুদ কারবারিদের মধ্যে জলাবাড়ীর সঞ্জু ঘোষ, মৃত্যুজয় ঘোষ, সাইদুল ইসলাম সাইদ, কৃষ্ণ দাস অন্যতম। মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে উচ্চহারে সুদের ফাঁদে ফেলে তাদের নিঃস্ব করার অভিযোগ রয়েছে এদর বিরুদ্দে। সুদ গ্রহীতাদের কাছ থেকে নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প ও বিভিন্ন ব্যাংকের ফাঁকা চেকে তাদের স্বাক্ষর নিয়ে সুদের ব্যবসা করেন তারা। সময়মতো সুদের টাকা দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্বে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে বিভিন্ন কৌশলে মোটা অঙ্কের টাপকা হাতিয়ে নেন তারা।

উপজেলার জলাবাড়ী বাজারের রিপন, শঙ্কর মালো, সম্ভুশীল, অরুন, ইন্দ্র, দিলিপ, মিলন ডালি, বিকাশ বিশ্বাস জানান, আমরা গরিব মানুষ টাকার প্রয়োজনে সঞ্জু ঘোষ গং দের কাজ থেকে টাকা কিস্তিতে নেই কিন্তু সঞ্জু ঘোষ এ সুযোগে আমাদের কাছ থেকে ফাঁকা চেকে ও ষ্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ঔ ফাঁকা চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে ডিজঅনারের মামলা ও উকিল নোটিশ পাঠিয়ে ভয় দেখাচ্ছে আমাদের। এবং কিস্তি বাদ গেলে আমাদের বিরুদ্দে থানায় অভিযোগ করে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করছে।

স্থানীয়রা জানান, সঞ্জু ঘোষ, মৃত্যুজয় ঘোষ, সাইদুল ইসলাম সাইদ, কৃষ্ণ দাস এরা কয়েকজন এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আইনি পদক্ষে না থাকায় সঞ্জু ঘোষ গংর মতো লোকেরা এলাকায় র্নিভয়ে সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুদের ব্যবসার পাশাপাশি জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিথ্যে মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্দে।
সঞ্জু ঘোষ বলেন, ব্যাংকে ও অন্যান্য জায়গা ফাঁকা চেক, ষ্টাম্প রেখে লোন দেয় আমরাও দেইয়।

এব্যাপারে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মোশারেফ হোসেন বলেন, যে সকল এনজিও বা সমবায় সমিতি গুলো লোনদেয় এ বিষয় আমরা অবগত রয়েছি। ইতিমধ্যে একাধিক উপজেলা পরিশধে আলোচনা ও জেলা সমন্যয় সভায় এটিনিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সকলকে অহবান জানিয়েছি যারা অতিরিক্ত সুধ নেয় অথবা যে সকল লোনদান প্রতিষ্ঠান বিষেশ করে সমবায় সমিতি লোনপ্রধান করে তাদের কাজ থেকে যারা লোননেয় তারা যদি কেউ হয়রানীর শিকার হয় এবং কেউ যদি চওরা সুধে অর্থ্যা নিধারিত যে সুধের হার আছে তার থেকে বেশি সুধ নেয় সেই বিষয়ে আমরা আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।