নৌকায় ভোট দেয়ায় গৃহবধূর হাত ভাঙ্গার অভিযোগ

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ায় গৃহবধুকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত গৃহবধূ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় শনিবার (১৭ জুলাই) ছয়জনকে আসামী করে একটি মামলা করেছে।

আসামীরা হল, বরগুনা সদর উপজেলার পূর্ব কেওরাবুনিয়া গ্রামের আলতাফের ছেলে ইমরান, ফজলুল হকের ছেলে মনির, তার ভাই মতি, মতির ছেলে মারুফ, মেনাজের ছেলে হুমায়ূন ও মিরন।

জানা যায়, একই বাড়ীর আবদুর রহিমের স্ত্রী গৃহবধু খাদিজা ২১ জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫ নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নে পূর্ব কেওরাবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন। ওই আসামীরা ভোট দিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘোড়া মার্কায়। এ নিয়ে শনিবার বিকাল ৫ টায় উভয়ের মধ্য ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে আসামী ইমরান ও মনির গৃহবধুর বসত ঘরে প্রবেশ করে মারধর করার জন্য দরজা খুলতে বলে। গৃহবধু ভয়ে দরজা বন্ধ করে দিলে জোরে ধাক্বা দিয়ে দরজা ভাংতে চাইলে ওই গৃহবধু আবার দরজা খুলে দেয়। এ সময় ইমরান উত্তেজিত হয়ে গৃহবধু খাদিজার মাথায় লোহার রড দিয়ে পিটান দেয়। খাদিজা বাম হাত দিয়ে ফিরালে ওই পিটান বাম হাতের উপর পরে হাত ভেঙ্গে যায়। আসামী মনির গৃহবধুর বুকে মুখমন্ডলে কিল ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করে। অন্য আসামীরা গৃহবধুর স্বামী আবদুর রহিম ও গৃহবধুকে পিটায়। শুক্রবার রাতে গৃহবধুকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে এক্সরে করে দেখতে পায় গৃহবধুর বাম হাত ভেঙ্গেছে। দুপুরে গৃহবধু বাদী হয়ে বরগুনা থানায় একটি মামলা করে।

গৃহবধু খাদিজা বলেন, আমাদের বাড়ীর সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফের ঘোড়া মার্কায় ভোট দিয়েছে। আমাদের পরিবার নৌকায় ভোট দিয়েছি। মাত্র ৩২ ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছে। আমরা কেন নৌকায় ভোট দিলাম। সেই আক্রোশে আসামীরা আমাকে ও আমার স্বামীকে মারছে। আসামী ইমরান মারপিটের কথা অস্বীকার করে বলেন, খাদিজা পরে গিয়ে আঘাত পেয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম তারিকুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।