পরকালে শান্তির জন্য ইসলামের বিকল্প নেই: ছারছিনা পীর

জাকির হোসেন, বানারীপাড়া।।
ছারছিনা শরীফের পীর শাহ মোহাম্মদ মোহেবুল্লাহ বলেছেন, পরকালে শান্তির জন্য ইসলামের বিকল্প নেই। ইসলামের হুকুম আহকাম মেনে চলা ছাড়া খাটি মুসলমান হওয়ার সুযোগ নেই। নিজেকে মুসলমান দাবী করবেন আর নামাজ রোজার ধার দারবেন না তা কি হয়?

রোববার (১৪ মার্চ) জোহর নামাজ বাদ তিনদিন ব্যাপী মাহফিলের আখেরী মোনাজাত পূর্ব সমাপনী বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।

পরকালে শান্তি পেতে হলে ইসলামের সকল নির্দেশাবলী মেনে চলতে হবে। দ্বীনের আকীদা আমলকে মজবুত রাখতে হবে। বর্তমানে আধুনিকতার নামে সমাজে ফ্যাতনা ফ্যাসাদ বেড়ে গেছে। আধুনিকতার নামে সমাজে অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে নিজকে পরিবারকে তথা সমাজকে মুক্ত রাখতেবেশি বেশি আমল করতে হবে। পীরের দরবারে আসবেন আর পীরের আদর্শ মেনে চলবেন না তা হয় না।

নিজে ইসলামী আদলে চলবেন, পীরে দরবারে আসবেন অপর দিকে সন্তান সুদ, ঘুষ মাদকে আসক্ত হবে তাতে আল্লাহর সাহ্নিদ্ধ পাওয়া যাবে না। সন্তানদেরকেও আল্লাহর পথে আনতে হবে।

পীর সাহেব আরো বলেন, এ দরবার ক্ষমতার বা গদীর রাজনীতি করে না। এ দরবার ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। এ দরবারের সৃষ্টি থেকে আজবদি এ মাদ্রাসার ছাত্ররা সম্পূর্ন রাজনীতির বাইরে অবস্থান করে। এদরবার রাজনীতি মুক্ত। তবে ইসলামের নীতি আদর্শ যারা মেনে চলে, ইসলামের ক্ষেদমত করে তাদেরকে ভোট দেয় ও ভোট দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

এ মাহফিলে রেকর্ড সংখ্যক লোক সমাগম হয়। ছারছীনা দরবাওে বিশাল মাঠ ছাপিয়ে পার্শবর্তী ছারছীনা স্বাস্থ্য কেন্দ্র মাঠসহ ছারছীনার সবফাঁকা স্থান লোকে পরিপুর্ন হয়ে যায়। লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতের জন্য নিয়ে আসা গাড়ী বানারীপাড়ার জুম্বদ্বীপ, কাজলাহারের মাঠে রাখা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ব্যবসায়ী তাদের পসরা নিয়ে রাস্তার দু’ধারে দোকান করেছেন। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মাহফিলের নিরাপত্তা বিধান করে।

মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আ জ ম অহিদুল আলমের উপস্থাপনায় নেরছারাবাদ উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুল হক, পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম কবির, ওসি আবীর মোহাম্মদ হোসেন, পীর সাহেবের জামাতা বরিশাল এবাদুল্লাহ মসজিদের খতীব মাওলানা নুরুর রহমান বেগ, পীর সাহেবের বড় ছেলে আবু নসর নেছার উদ্দিন আহম্মদ হোসাইন, দারুচ্ছুন্নাৎ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড.সৈয়দ শরাফত আলীসহ আলেম ওলামাগন বক্তৃতা ওয়াজ নসিহত করেন।

আধাঘন্টা ব্যাপী আখেরী মোনাজাতে, দেশ ও জাতির কল্যান কামনা করা হয়। গোটা বিশ্বেও মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয় এসময় লাখ লাখ মানুষের ক্রন্দনের রোলে ছারছীনার আকাশ ভারী হয়ে ওঠে।