পাথরঘাটায় টয়লেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্যের হাতে শিক্ষক লাঞ্চিত

পাথরঘাটা প্রতিনিধি, বরগুনা।।
বরগুনার পাথরঘাটায় পরীক্ষা চলাকালী সময়ে ৯৪ নং চরলাঠিমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.শহিদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং একই এলাকার ইউপি সদস্য মো. ফাইজুল কবিরের বিরুদ্ধে।

সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম।

তবে অভিযোগ অস্বীকার কারে ফাইজুল কবির বলেন, তার স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ের টাকা উত্তোলন করে ওই শিক্ষক অতœসাৎ করেছেন বলে দাবি করেন, এনিয়ে মামলাও চলমান আছেন বলে জানান।

এর আগে রোববার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৯৪ নং চরলাঠিমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ফাইজুল ইসলাম পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং ৯৪ নং চরলাঠিমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৯৪নং চরলাঠিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতে কিছু অর্থ বরাদ্দ হয়, সেই টাকা দিয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বিদ্যালয়ের জমিতে টয়লেট নির্মান করার কাজ শুরু করেন। এ খবর পেয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য ফাইজুল টয়লেটটি অন্যত্র বসানোর জন্য বললে তিনি তা না করে নির্মানকাজ চালাতে থাকেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও ফাইজুল কবিরের সাথে কাটাকাটি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে ফাইজুল প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজ সহ চড়থাপ্পর ও লাথি মারে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. ফাইজুল কবির জানান, তার সাথে আমার কোন মারধরের মতো ঘটনা ঘটেনি। তবে বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষক স্কুলের স্লিপসহ বরাদ্দের টাকা সে কমিটির কাউকে না জানিয়ে আমার স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করে আত্মসাত করে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান আছে। হয়তো এ থেকে বাচার জন্য আমার বিরুদ্ধে ওই প্রধান শিক্ষক এ অভিযোগ করেছেন।

পাথরঘাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা টি.এম. শাহ আলম বলেন, ঘটনার সময় ওই প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোনে লাঞ্ছিত এবং হুমকি ধামকির বিষয়টি বলেছেন। ওই সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে কিনা জানিনা। তবে সভাপতির বিরুদ্ধে এরকমের আচরনের অভিযোগ আগে থেকেই ছিলো।