পাথরঘাটায় দুপুর ২টায় জ্বলছে পৌরসভার ল্যামপোস্টের আলো

এএসএম জসিম, পাথরঘাটা (বরগুনা)।।
বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার ল্যামপোষ্টের আলো দুপুর ২টা বাজলেও বন্ধ হয়নি। যেখানে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি কমিয়ে নিয়ে আসার জন্য সরকারী অফিস এবং বাজার রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার কথা বললেও মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে পাথরঘাটা পৌরশহরের বিভিন্ন সড়কে ঘুড়ে ঘুড়ে বিদ্যুৎতের ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বলার এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে পাথরঘাটা পৌরশহরের হাসপাতাল সড়ক, শহরের প্রান কেন্দ্র শেখ রাসেল স্কয়ার এবং কলেজ রোডেসহ সকল রোড়ে ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর ২ টার সময় পাথরঘাটা পৌর শহরের সব কয়টি সড়ক ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি ল্যামপোস্টে জ্বলছে সাদা বাতি। গত সোমবার সন্ধার পরে জ্বালানো এই বাতিগুলো পরের দিন দুপুর গড়ালেও বন্ধ হয়নি। জ্বালানি সাশ্রয়কে কেন্দ্র করে একদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে লোডশেডিংয়ের মন্ত্র। অন্যদিকে মাঝ রাতেও পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আলোর ঝলকানি। এতে বাদ যায়নি সরকারি ভবন ও তাদের লাইটিং সাইনবোর্ড সহ বেসরকারি ব্যাংক বিমা ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। এমনকি রাতে চলাচলের সুবিধা ও নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহৃত ল্যাম্পপোষ্টে সকাল গড়িয়ে দুপুরেও জ্বলছে বাতি।

অন্যদিকে এ অপচয়ের ভিড়ে অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিংয়ে সারাদেশের মানুষের যেন ভোগান্তির শেষ নেই। বরগুনা জেলা লোডশেডিং এর আওতা মুক্ত থাকলেও তা শুধুমাত্র কাগজে-কলমেই তা সিমাবদ্ধ রয়েছে। যখন খুশি তখন বিদ্যুৎ চলে যায়।

স্থানীয় কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম কাঁকন জানান, যখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ইস্যুতে সরকার অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং দিচ্ছে, সেসময় জনগনের ট্যাক্সের টাকার এমন অপচয় মেনে নেয়া যায় না।

পাথরঘাটা পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বরত মো. ফরিদ মিয়া জানান, পল্লী বিদ্যুতের মেইন লাইনের সাথে পৌর শহরের রোড লাইনের সংযোগ মিলে যাওয়ায় লাইনের সুইচ অফ করেও লাইট বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তাই এ সমাধানে পল্লী বিদ্যুুৎ এবং পৌরসভার কাজ চলছে।

পাথরঘাটা লোডশেডিংয়ের আওতায় বাহিরে থাকলেও একাধিকবার লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে চাইলে পাথরঘাটা পল্লী বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইন ম্যান মো. হাসান জানান, যেহেতু উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় রয়েছে। সে কারণে কোথাও লাইনে সমস্যা হলে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতে হয়। এছাড়াও ৩২ কেবি লাইনে সমস্যার কারণে বিভিন্ন সময় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুস সালাম জানান, বর্তমানে জ্বালানির সাশ্রয় করা ছাড়া বিকল্প কোন উপায় নেই। দেশের স্বার্থে এবং নিজের স্বার্থেই সবাইকে সচেতন হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার না করতে পরামশর্ দেয়া হয়েছে।

এবিষয়ে পাথরঘাটা পৌরমেয়র আনোয়ার হোসেন আকন বলেন, আমার পৌরসভার বিদ্যুৎ লাইনে কাজ চলমান রয়েছে এজন্য সংযোগ দেওয়া আছে। তিনি অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কাটাউট উঠানো আছে, তবে কোথা থেকে সংযোগ আছে এবং কিভাবে বিদ্যুৎ লাইনে আলো জ্বলছে তা নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করতেছে।