পেটে রেঞ্জ ঢুকিয়ে স্ত্রীকে হত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি।।
নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুরে স্বামীর হাতে ধাতব যন্ত্রের (রেঞ্জ) উপর্যুপরি আঘাতে মাথা থেঁতলে দিয়ে এবং পেটে আঘাত করে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। নিহত ওই গৃহবধূর নাম সুবর্ণা আক্তার, বয়স ২১।

সুবর্ণা আক্তার নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. সোহেল মিয়ার স্ত্রী। সোহেল স্থানীয় একটি হলুদ-মরিচ ভাঙানোর কারখানায় কাজ করতেন। সুবর্ণা-সোহেল দম্পতির ৬ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

সুবর্ণার স্বজনরা, ২৮ জানুয়ারি রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সাংসারিক অভাব-অনটন নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সোহেল ও সুবর্ণা দুজনেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজিত সোহেল ঘরে থাকা একটি রেঞ্জ (ধাতব যন্ত্র) নিয়ে সুবর্ণার ওপর চড়াও হন। এ সময় ওই রেঞ্জ দিয়ে সুবর্ণার নাক-মুখ-মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন সোহেল। এতে তার মুখমণ্ডল থেঁতলে যায়। ওই সময় সুবর্ণা বাধা দিলে ওই রেঞ্জ তার পেটে ঢুকিয়ে দেন সোহেল। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে যায়।

ওই সময় সুবর্ণার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে নরসিংদী মডেল থানায় খবর দেন। পরে রাত ২টার দিকে ওই থানার উপপরিদর্শক অভিজিৎ চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। ওই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় সুবর্ণাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে শনিবার সকালে তার মরদেহ ওই হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান জানান, গুরুতর আহতওই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় সুবর্ণাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে শনিবার সকালে তার মরদেহ ওই হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আমরা আটক করেছি। তিনি আমাদের কাছে পুরো ঘটনার স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।