প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ভাই-বোনের গায়ে এসিড নিক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক।।
পটুয়াখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চাচাতো ভাই-বোনের গায়ে এসিড নিক্ষেপ করে এনায়েত গাজী নামে এক যুবক। পুলিশের হাতে আটক এনায়েত গাজী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন বক্তব্য দিয়েছে।

বুধবার (০৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে সদর থানা পুলিশের একটি দল এসিড নিক্ষেপকারী এনায়েতকে আটক করতে সক্ষম হয়। এদিকে এসিডে ঝলসে যাওয়া সুমাইয়া আক্তার (১৬) ও তার ছোটভাই মোহাম্মদ আলী (১২) মুমূর্ষু অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

গত সোমবার গভীর রাতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়ার ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুই ভিকটিম ওই গ্রামের রাজা মিয়ার সন্তান। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আখতার মোর্শেদ।

ঘটনার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়-গত ২ আগস্ট আহত ভাই-বোন রাতে শেষে একই বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে। রাত দেড়টার দিকে কে বা কারা ঘরে ঢুকে সুমাইয়া ও মোহাম্মদ আলীর গায়ে এসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়। এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থা সংকটাপন্ন হলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

সংশ্লিষ্ট মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মুশফিকুল ইসলাম মিলন বলেন, বিষয়টি শুনেছি, কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানি না। পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনা শোনার পরপর আমরা সিআইডি ও পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন নিয়ে আমালত সংগ্রহ করেছি। নিক্ষিপ্ত পদার্থ দাহ্য পদার্থ কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ভিকটিমের দেয়া তথ্যে এনায়েত নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্পর্কে উভয়ে চাচাতো ভাই-বোন। এছাড়া ভিকটিমের বাবা রাজা মিয়া একটি হত্যা মামলার আসামি বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে এই ঘটনার পূর্বের কোনো ঘটনার সূত্র কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, আটককৃত ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, প্রতিবেশীর সঙ্গে তার শত্রুতা রয়েছে। তাদের হেনস্তা করতেই এ পরিকল্পনা নিয়েছে সে।