প্রবল বন্যায় ধসের শঙ্কায় বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
মহামারি করোনা সংকটের মধ্যেই চরম বন্যার কবলে পড়েছে চীন। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চল হুবেই প্রদেশে বন্যায় এরই মধ্যে লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছে, ভেসে গেছে রাস্তাঘাট। শুধু তাই নয়, প্রবল বন্যায় যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার শঙ্কায় পড়েছে দেশটির হুয়াংজি নদীতে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ ‘থ্রি জর্জেস’।

কয়েকদিনের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে পানির ধারণ ক্ষমতা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় বাঁধটি ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে বাঁধের কাছাকাছি থাকা কয়েক লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ ধসে গেলে বা পানি উপচে গেলে তাতে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে চীনকে। খবর আলজাজিরা, এশিয়া টাইমস ও ইন্ডিয়া ব্লুমসের।

চীনের সর্ববৃহৎ জলাধার থ্রি জর্জেসের ইতিহাসে এবারই চরম মাত্রায় পানির চাপ সামলাতে হচ্ছে বাঁধটিকে। কয়েকদিন ধরে প্রতি সেকেন্ডে ৭৫ মিলিয়ন লিটার পানি প্রবাহিত হয়েছে এ বাঁধ দিয়ে। রাতারাতি সেখানে পানির উচ্চতা দুই মিটারেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫ দশমিক ৬ মিটারে, যা পূর্ব সতর্কতা মাত্রার চেয়ে অন্তত ২০ মিটার বেশি। জলাধারটি সর্বোচ্চ ১৭৫ মিটার গভীরতার পানি ধারণে সক্ষম।

চাপ কমাতে গত শনিবার থেকে ১১টি জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ রেকর্ড ৪৯ মিলিয়ন লিটার বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে বাঁধটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পানি নির্গত হচ্ছে এখন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পানিবিদ্যুৎ বাঁধ থ্রি জর্জেস প্রকল্পের গবেষক ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেসিরি টুলোস বলেন, ‘তারা বাঁধের পানি উপচে পড়া ঠেকাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। পানি উপচে পড়া হলো বাঁধের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। কারণ এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় এবং পুরো জিনিসটি ভেঙে পড়তে পারে।’

২ দশমিক ৩ কিলোমিটার চওড়া ও ১৯২ মিটার উচ্চতার থ্রি জর্জেস বাঁধটির কাজ শেষ হয় ২০১২ সালে। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, ভয়াবহ বন্যা থেকে চীনের মানুষদের রক্ষা করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

চীনের সরকারি হিসাবে, বাঁধটি এ বছর ১০০ বিলিয়ন ঘনমিটারেরও বেশি বন্যার পানি আটকে দিয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষকে ঘরছাড়া হওয়া থেকে রক্ষা করেছে।