বরগুনার সাবেক জেলা প্রসাশকের অনৈতিক ভিডিও ভাইরাল

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরগুনার সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) হাবিবুর রহমানের নারীঘটিত তিনটি অনৈতিক গোপন ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ডিসিকে এক নারীর সঙ্গে লাল চাদর বিছানো একটি খাটে অন্তরঙ্গ মুহূর্তেও দেখা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দিয়েছে। তথ্য সূত্রে জানা যায়, সাবেক এ জেলা প্রসাশকের তার কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছেন।

এসময় তিনি বলেন, ওই নারী প্রায়ই বরগুনা ডিসির বাংলোয় রাতযাপন করতেন। ডিসি তার অফিসে নিয়ে স্টাফদের পরিচয় করিয়ে দিতেন যে ওই নারী তার বান্ধবী। বিমানে, স্পিডবোটে একত্রে ভ্রমণও করতেন তারা।

এ ভিডিওর কথোকপথনে শোনা যাচ্ছে যে, দুই দিন পর্যন্ত তোমার এত ফোন আসে। ভালোভাবে তোমার সঙ্গে কথাও বলা যায় না। ডিসির হাতে একটি অপো টাচ ফোন। দ্বিতীয় ভিডিওতে হাসি-তামাশা করে ওই নারীর কপালে চুমু দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি লাল কভার বালিশে শুয়ে গল্প করছেন তারা। তৃতীয় ভিডিওটি হালকা অন্ধকারে। সেখানে অন্তরঙ্গ পরিবেশ। আনন্দ-ফুর্তির শব্দ শোনা যায়। অনুমান করা যায়, ওই নারী বরগুনা ডিসির বাংলোতে প্রায়ই রাতযাপন করতেন।

বরগুনা ডিসি অফিস সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাবিবুর রহমান বরগুনার ডিসি হয়ে আসেন। আড়াই বছর পর চলতি বছরের ২০২৩ সালের ৯ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বরগুনা থেকে সরিয়ে উপ-সচিব পদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখায় পদায়ন করা হয়। তিনি বর্তমান বরগুনা জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলামের কাছে গত ৩০ জুলাই দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি উপ-সচিব পদ থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিও পেয়েছেন এই হাবিবুর রহমান।

তথ্যে আরও জানা যায়, ওই নারীর স্বামী ছিলেন একজন পাইলট। তার একটি বিবাহিত মেয়ে রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রথমে ডিসির সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। ডিসি তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অসংখ্যবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। ঘুরেছেন দুজন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানেও। নারী ঢাকার ধানমন্ডিতে নিজের বাসায় বসবাস করলেও সঙ্গীর অভাব ছিল। মেয়ে বিয়ে দেওয়ার পর ডিসির সঙ্গে সংসার শুরু করতে চেয়েছিলেন তিনি।

তথ্যদাতা ওই নারীর বরাত দিয়ে বলেন, ডিসি হাবিবুর রহমান একাধিক মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করেছেন, যা ওই নারীর কাছে ধরা পড়েছে। যার কারণে তিনি তার কাছ থেকে সটকে পড়ার আগে গোপনে তার এ অনৈতিক ভিডিও করে রেখেছেন। ডিসি বরিশালের এক নারী প্রভাষকের সঙ্গেও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া বরগুনা ডিসি অফিসের নারী স্টাফদের সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্ক ছিল তার, যা ওই নারীর সংরক্ষণে রয়েছে আছে বলে জানা যায়।

আরও জানা যায়, ওই ডিসির নারী ও টাকার প্রতি লোভ ছিল বেশি। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর একান্ত সচিব থাকাকালে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা করিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

তথ্যদাতা আরও জানান, ঢাকা শহরে ডিসি হাবিবুর রহমানের একাধিক বাড়ি রয়েছে। বরগুনায় থাকা কালিন সময়ে তিনি এই জেলা থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুস নিয়েছেন। যাওয়ার কয়েকদিন আগে নদী বন্দরের জমিতে ব্যবসায়ীদের ৪০টি দোকান ভেঙে দিয়ে দুই মাসের মধ্যে আবার ৮ কোটি টাকা ঘুস নিয়ে অবৈধভাবে একসনা ডিসিআর দিয়েছেন। অসুস্থতার ভান করে তিনি ৫ জুলাই হেলিকপ্টারে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। আবার ২৫ জুলাই বরগুনা এসে নবাগত জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

ওই তথ্যদাতা আরও জানান, ডিসির গাড়িচালক আল আমিন সব কিছু জানেন। কোথায় কীভাবে ওই নারীকে নিয়ে ডিসি অভিসারে গেছেন। যদিও আল আমিন বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাবেক জেলা প্রসাশক হাবিবুর রহমানকে তার মুঠো অনেকবার ফোন করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কারো ফোনই রিসিভ করেননি।

এদিকে এ অনৈতিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। নানান মানুষ বিভিন্ন মন্তব্যও করছেন