বরগুনায় ইয়াস তাণ্ডব: টেংরাগিরি ও শুভসন্ধ্যা বনাঞ্চল লন্ডভন্ড

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বঙ্গোবসাগরের তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জলরাশি শুভসন্ধা সমুদ্র সৈকত। বাতাসের ঝিরিঝিরি শব্দে দোল খায় সবুজ ঝাউবন। বালুময় দীর্ঘ সৈকত ঝাউবনের সবুজ সমীকরণের এ দৃশ্যটি যেন প্রকৃতি প্রেমর একটি উদাহরণ।

উপকূলীয় জেলা বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়ায় চরে অবস্থিত এই শুভ সন্ধা সমুদ্র সৈকত। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে সৌন্দর্য্য হারিয়ে ভূ-গর্ভে বিলীন হয়েছে ঝাউ বাগান।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল টেংরাগিড়ি এই বেলাভূমির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে শুভ সন্ধার ঝাউবাগান। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে আছে প্রায় প্রস্থ্য ৫০ ফুট ও দৈর্ঘ্য ৩ কিলো মিটার ঝাউবন। যে ঝাউবনটি ছিলো শুভসন্ধ্যার প্রধান সৌন্দর্য।

সারা বছরই সমুদ্র সৈকত দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসতেন। চলমান করোনাভাইরাস এর কারণে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র গুলো। পর্যটকদের যেমন সমুদ্র প্রিয় তেমনই প্রিয় ছিলো ঝাউবন। সেই উপকূলের সৌন্দর্য্য লুকিয়ে থাকতো যে ঝাউবনের ভেতর, সেই ঝাউবন আর আস্তা নেই ইয়াসের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে ঝাউ গাছ লাগানো শুরু থেকে যে কয়টি ঘূর্ণিঝড় আসছে তাতে প্রায় ২৫ হাজার ঝাউ গাছের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। আর গত বছর আম্পানের কারনে প্রায় ৩ হাজার ঝাউবন বিলিন হয়ে গেছে। আম্পানের পর ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে টেংরাগিরি বন ও শুভ সন্ধা ঝাউবনসহ ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর এখানে উপমহাদেশের সব চেয়ে বড় জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসব ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। তা ছাড়া প্রতিদিন হাজারো পর্যটক আসতো। সমুদ্রের মূল আকর্ষণ ছিল ঝাউবন। বিভিন্ন দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঝাউবন বিলীনের পথে।

সিডর, আয়লা,নারগিস,আম্পানসহ বড় বড় দুর্যোগ কে মোকাবেলা করেছে এই বন। বনের কারনে রক্ষা পেয়েছে উপকূল বাসি। উপকুলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদের রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করেছে।ম্যান-গ্রোভ বন উপকূলকে সব সময় রক্ষা করে আসছে। আর সেই রক্ষা কবজই ইয়াসের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এই বন না থাকলে উপকূলকে বাচাঁনো সম্ভব হতো না।

এ বিষয়ে তালতলী রেঞ্জের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টেংরাগিরি ও শুভ সন্ধ্যা বনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের তীরবর্তী প্রায় দেড় কিলোমিটার পাড় ভেঙে গেছে ও নদীর পানির সাথে ভেসে গেছে অনুমানিক ছয় হাজারের বেশি গাছ।