বরগুনায় উৎকোচ না পেয়ে নারী ও প্রতিবন্ধি শিশুকে পিটিয়ে আহত

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভুমি (এসি ল্যান্ড) অফিসের প্রধান করনিক মো. মনির হোসেন ও সার্ভেয়ার মোশাররফ ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ চেয়ে না পেয়ে রাতের আধারে বসত বাড়ী ভাংচুর, গৃহবধু ও প্রতিবন্ধি শিশুকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভুগি পরিবার।

বুধবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় লিখিত বক্তব্য রাখেন বরগুনা সদর উপজেলার লাকুরতলা গ্রামের মন্টু মল্লিকের ছেলে রাকিব হোসেন মল্লিক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রকৃত ভুমির মালিক সোহরাফ মল্লিক, আবুল মল্লিক, বাবুল মল্লিক, তুলি বেগম ও রাহিমা বেগম।

রাকিব হোসেন মল্লিক অভিযোগ করেন, গৌরীচন্না মৌজায় আমাদের পৈত্রিক জমিতে দুই যুগের অধিক সময় বসত ঘর নির্মান করে অনেক গুলো পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করিতেছি। আমরা হাল নাগাদ সরকারে খাজনা পরিশোধ করেছি। আমাদের ওয়ারিশরা তাদের বসত ঘর মেরামত করতে থাকলে গৌরীচন্না তহসিল অফিসের তহসিলদার শামসুল হক আমাদের বসত ঘর মেরামত করতে বাধা দেয়। আমরা বরগুনা সহকারী কমিশনার ভুমি অফিসে ৪ নভেম্বর গিয়ে আমাদের কাগজপত্র দেখাই। সহকারী কমিশনার ভুমি আমাদের আশ্বস্ত করেন। ৯ নভেম্বর ওই অফিসের প্রধান সহকারী মনির হোসেন ও সার্ভেয়ার মোশাররফ হোসেন আমাদের বলেন, তোমাদের কাগজপত্র সঠিক নয়।

তারা আমাদের বলেন ৫০ হাজার টাকা দিলে আমরা সহায়তা করবো। আমরা উৎকোচ দিতে অস্বীকার করলে ওই দিন রাত সাড়ে সাতটায় মনির হোসেন, সার্ভেয়ার মোশাররফ হোসেন, তহসিলদার শামসুলহক, চেইনম্যান, যতীন মৃধা, রিপন রায়, সঞ্জয় মুতাইত, পিয়ন রাধে শ্যামসহ আরও ১০-১৫ জন লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আমাদের বসত বাড়ীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘর দরজা ভাংচুর করে তছনছ করে প্রায় লাখ টাকা ক্ষতি করে। সন্ত্রাসীদের আঘাতে গৃহবধু রিনা মল্লিকের পায়ে রক্তাক্ত জখম হয়। পাচঁ বছরের প্রতিবন্ধি শিশু আছোয়াতও মারাত্মক আহত হয়। তাদেরকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসে পরিবেশ শান্ত করেন। রাকিব বলেন, ওই জমি আমাদের বাপ দাদার। আমরা টাকা দিতে না পারায় আমাদের উপর হামলা চালায়। এমন কি আমাদের কোন নোটিশও দেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে মনির হোসেন বলেন, আমরা ঘর ভাংতে যাইনি। সরকারী জমিতে তারা ঘর তুলতেছিল। আমরা বাধা দিয়েছি। সরকারী জমি রক্ষার জন্য আমাদের তহসিলদার ষেকানে যায়। ওখানের লোকজন আমাদের রাধে শ্যামকে মারধর করেছে। তারা সরকারী কাজে বাধা দিয়ে অন্যায় করেছে। আমরা কাউকে আঘাত করিনি। সরকারী জমি উদ্ধার করতে সরকার বন্ধ পরিকর।