বরগুনায় করোনা ভাইরাস পুজি করে ৬টি খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
প্রতিদিন বেড়েই চলছে মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। সারাদেশে চলছে দেশে কঠোর লকডাউন। অথচ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাস্থ্যবিধি না মেনে বরগুনার বাইনচুটকি-বরইতলা, পুরাকাটা-আমতলী, চালিতাতলী-বড়বগী, নিশানবাড়িয়া-পাথরঘাটা খেয়াঘাটে চলছে নিয়মিত খেয়া পাড়াপাড়। আর লকডাউন ও করোনাকে পুঁজি করে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। মানা হচ্ছে না জেলা পরিষদের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে প্রায়ই খেয়া চালকদের সাথে যাতায়াতকারীদের ঝগড়া চলছেই।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকায় মানুষ জন প্রতি ১৫ টাকার স্থলে ১০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।
মটরসাইকেল ১৫ টাকার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৩০টাকা করে। এ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারনে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।
এসময় ঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজন অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দেখতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, বলে এটাই এখানকার রেট। পারাপার করতে হলে আমাদের এ নিয়ম মানতে হবে।

সোলায়মান খান অভিযোগ করে বলেন, গতকাল (বুধবার) আমি ও আমার স্ত্রীসহ ৩ জন বরগুনা থেকে বরইতলা-বাইনচুটকি খেয়া পাড় হয়ে পাথরঘাটায় আসি। এসময় জন প্রতি ১৫ টাকা ভাড়া হলেও আমাদের ৩জনের কাছ থেকে ৩০০টাকা নেয়া হয়েছে। ওই খেয়ায় মোট ১৯জন যাত্রী ছিল। প্রতেকের কাছ থেকে ১০০টাকা নেয়া হয়। অতিরিক্ত ভাড়া কেন আদায় করা হচ্ছে এমনটা বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

জাহিদুর রহমান মেহেদী নামের আরো একজন বলেন, আমি আজ বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনা জেলা শহর থেকে খেয়ায় নিশানবাড়িয়া হয়ে পাথরঘাটা আসি। এ সময় এ খেয়ায় ১৩জন যাত্রী ছিল। জনপ্রতি ১০০টাকা করে ভাড়া দিতে হচ্ছে। বেশি ভাড়া নেয়া হয় কেন জানতে চাইলে তারা (খেয়া ইজারাদার) বলে যান-না গেলে না যান, ভাড়া ১০০করেই দিতে হবে। এসময় খেয়াটি ঘাটে না ভিড়ে অন্য এক পাশে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়।

এ বিষয় বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, কঠোর লকডাউনের সময় খেয়া পাড়া-পাড়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিষটি তাদের ইজারাদারদের নির্দেশনা দেয়া আছে। যদি কেউ নির্দেশনা অমান্য করে খেয়া চালায় ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন, তাহলে খোজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।