বরগুনায় পুলিশ সদস্য মাইনুলের একাধিক বিয়ে, যৌতুক না পেলেই তালাক!

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা ।।
বরগুনায় সন্তান পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। স্ত্রীকে অভিনব কৌশলে তালাক দেওয়া নাকি তার কাজ। বরগুনা সদরের টাউন হল ব্রিজ সংলগ্ন আবুল হাশেমের ছেলে মাইনুল ইসলাম রাসেল (পুলিশ সদস্য) এযাবৎ তিনটি বিবাহ করেছে দুইটাকেই অভিনব কায়দায় তালাক দিয়েছে।

প্রথম স্ত্রী মির্জাঞ্জের মেয়ে সানজিদা। মির্জাগঞ্জ থানায় চাকরিরত অবস্থায় মাইনুল ইসলাম রাসেল মির্জাগঞ্জ এলাকার সানজিদা জান্নাত নামের একটি মেয়েকে বিবাহ করে। বিবাহের তিন-চার মাস পরে ৭ লাখ টাকা জমি কেনার জন্য যৌতুক দাবি করলে সানজিদার পরিবার টাকা দিতে না পারায় একদিন সানজিদার মা ও সানজিদাকে বরগুনা কাজী অফিসে এনে পুলিশের চাকরির রেশন কার্ডের জন্য বিবাহের কাগজপত্র দিতে হবে তাই বলে তাদের স্বাক্ষর রাখে। কিছুদিন পর সানজিদা পায় তালাকের কাগজ। এরপরে করোনা মহামারীর লকডাউনের কারণে ও সানজিদার বাবা বিদেশ থাকায় পুলিশ সদস্য মাইনুলের প্রতি অভিযোগ করতে পারেনি সানজিদার পরিবার। এর পর দ্বিতীয় স্ত্রীকেও একই কায়দায় কৌশলে তালাক দিয়েছেন পুলিশ সদস্য মাইনুল ইসলাম রাসেল।

মামলা সূত্রে যানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম রাসেলের সাথে বিগত ০৯/০৬/২০২০ তারিখ ইসলামী শরাশরিয়ত মোতাবেক শারমিন মুনার সাথে বিবাহ হয়। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্য শারমিনকে নিয়া পটুয়াখালীর কলাপাড়া চাকুরীর সুবাধে বাসা ভাড়া নিয়া থাকে। কিছুদিন পরেই বাসা ছেড়ে দিয়া ২ লাখ টাকার জন্য শারমিনকে বাবার বাড়িতে পাঠাইয়া একপর্যায় ভুল বুঝাইয়া কৌসুলে রেসন কার্ডের কথা বলিয়া বিগত ইং
০৯/০৮/২০২০ তারিখ একটি নীল কাগজে টিপসহি নেয়। এরপরে শারমিনকে গত ০১/০৯/২০২০ তারিখ ৫ টার দিকে বরগুনা এসে বাসা থেকে তাকে শারমিনকে নিয়ে তার বান্ধবী মহিমা মুন্নি ৭ নং ঢলুয়া বিসিক সংলগ্ন বিলের বাসায় নিয়া যায়। সেখানে খাওয়া দাওয়া শেষে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে সকাল ৯ টার সময় কলাপাড়া যায়, সেখানে আবাসিক হোটেলে রুবানের ২০৫ নং রুমে বেলা ১২.০০ টার দিকে তাকে রেখে সে কলাপাড়া থানায় ডিউটি করে। ডিউটি শেষে ০১/০৯/২০২০ তারিখ থেকে বিগত ০৭/০৯/২০২০ তারিখ পর্যন্ত ৭ দিন স্ত্রী হিসেবে সহবাস করে বাড়ীতে চলে যায়। পুনরায় ৪ দিন পরে অর্থাৎ বিগত ১১/০৯/২০২০ তারিখ পুলিশ সদস্য মাইনুল ইসলাম শারমিনকে জানায় সে অসুস্থ কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি। তাকে দেখতে যাওয়ার খবর দেয়। শারমিন দ্রুত মটর সাইকেল যোগে কলাপাড়া যায়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হলে তাকে নিয়া আবাসিক হোটেল রুবানে ৩০৩ নং রুমে রাত্রী যাপন করে। শারমিন পরের দিন বাবার বাড়ীতে চলে যায়। তার পরের দিন পুলিশ সদস্য সারমিনকে জানায় বিগত ০৯/০৮/২০২০ তারিখ তাকে তালাক দিয়েছে। তাকে বলে, ভবিষ্যতে তুমি আমার সাথে আর কোন দিন যোগাযোগ করবে না। এখন তুমি আর আমার স্ত্রী নাই, আমি তোমার স্বামী না। এরপরে ঘটনার বিষয় সারমিন তার বাবা মাকে জানায়। গত ১৪/১০/২০২০ তারিখ সারমিন বরগুনা থানায় মামলা করতে গেলে আসামী একজন পুলিশ সদস্য হওয়ায় মামলা নেয়নি। এরপর বিগত ১৫/১০/২০২০ তারিখ বরগুনা পুলিশ সুপার সাহেবের কাছে গেলে তিনি বিস্তারিত শুনিয়া পুলিশ সুপার কাছে যেতে বলে। তাপর সারমিন বিগত ১৮/১০/২০২০ তারিখ পুলিশ সুপার বরাবরে গেলে পুলিশ সুপার সাহেব মামলা করার পরামর্শ দেয়। অতঃপর বিগত ১৯/১০/২০২০ তারিখ বরগুনা থানায় মামলা করিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপরে ভুক্তভোগী শারমিন নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করে।

এ বিষয়ে শারমিনের বিবাহর কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাইনুল ইসলাম ও শারমিন মুনার বিবাহ আমার এখানে সম্পন্ন হওয়ার কিছুদিন পরে ছেলের বাবা অন্য একজনকে মেয়ের বাবা সাজিয়ে এনে তারপরে আমাকে বলে এই বিবাহের আলামত রেজিস্ট্রার থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে মানে গায়েব করতে হবে, কিন্তু তা আমি করি নাই। তালাক প্রসঙ্গে কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেটের কাজী জাহিদুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন করা হয় কাবিননামা ও তালাকের কাগজে শারমিন মুনার স্বাক্ষর দু’রকম কেন প্রশ্নের জবাবে কাজী বলেন, তাদের দুজনের সম্মতি ক্রমে এখানে তালাক হয়।

এসব বিষয়ে পুলিশ সদস্য মাইনুল ইসলাম রাসেলের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে একবার ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দেয়। দ্বিতীয়বার ফোন রিসিভ করেন না।