বরগুনায় প্রচণ্ড তাপদাহে বিপর্যস্ত ফসলের ক্ষেত

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরগুনায় প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে বিবর্ণ ফসলের ক্ষেত। পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে রবি মৌসুমের চিনাবাদাম, মরিচ, খেসারি, মুগ, মসুর, ছোলা ও ফেলনের আবাদ।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমতলী উপজেলায় ৪২৫ হেক্টরে চিনাবাদাম, ৪৫০ হেক্টরে মরিচ, ৫ হাজার হেক্টরে খেসারি, ১০ হাজার ২৫০ হেক্টরে মুগ, ২০ হেক্টরে মসুর, ২৫ হেক্টরে ছোলা এবং ৯৬ হেক্টর জমিতে ফেলনের আবাদ হয়েছে। গত তিন মাস ধরে এখানে বৃষ্টি নেই। টানা অনাবৃষ্টির কারণে ও প্রচণ্ড তাপদাহে এখানের রবি ফসলের ক্ষেত পুড়ে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্যপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এ উপজেলার কৃষক।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া, চাওড়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার চিনা বাদাম, মুগডাল, ফেলন, মসুর, খেসারি ও মরিচ ক্ষেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে অনেক ক্ষেতের ফসলই পুড়ে গেছে। পানির অভাবে গাছ থেকে ফলন বের হতে পারছে না।

কুকুয়া গ্রামের কৃষাণী ফরিদা বেগম বলেন, ১৮ শতাংশ জমিতে মুগডাল চাষ করেছিলাম, তা পুড়ে গেছে। পানির অভাবে গাছ থেকে ফলন বের হতে পারছে না। এলাকার ইসমাইল বললেন, প্রচণ্ড রোদের তাপে সব পুড়ে চৌচির হয়ে গেছে।

সোনাখালী গ্রামের আলমগীর মিয়া বলেন, ৫০ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় অধিকাংশই রোদে পুড়ে গেছে।
ক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আক্ষেপ করলেন চন্দ্রা পাতাকাটা গ্রামের দুলাল মোল্লাও।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম নয়াদিগন্তকে বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহের ফলে মাটির নিচে জমানো পানি শুকিয়ে ক্ষেতে লবণাক্ততা দেখা দেওয়ায় গাছ পুড়ে নষ্ট হয়েছে। অনাবৃষ্টিতে কৃষক সঠিক সময়ে সেচ দিতে না পারায় এ বছর কাঙ্খি ফলন পাবেন না।