বরগুনায় বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন ও দপ্তর পরিদর্শণে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. অমিতাভ সরকার বুধবার (০৭ অক্টোবর) বরগুনায় এক সরকারী সফরে এসে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পনেরটি আয়োজনে অংশগ্রহন করেন। বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব পিয়াস চন্দ্র দাস সাক্ষরিত এক সরকারি অনুষ্ঠান সূচি থেকে জানা গেছে, তিনি বরগুনা ও পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প, প্রশাসন সম্পর্কীত কয়েকটি দপ্তর পরিদর্শণ ও উদ্বোধন করবেন।

পরিদর্শণের মধ্যে ছিলো- বরগুনা জেলাধীন পাথরঘাটা উপজেলার জেলা পরিষদ কর্তৃক একটি উন্নয়ন প্রকল্প, পাথরঘাটা উপজেলা নিবার্হী অফিসারের দপ্তর, পাথরঘাটা উপজেলা ভূমি দপ্তর, পাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ দপ্তর ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধীকার প্রকল্প/ উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে পাথরঘাটার হরিণঘাটা ইকোপার্ক, পাথরঘাটা ইউনিয়নের একটি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি (আমার বাড়ি, আমার খামার) প্রকল্প।

এছাড়াও তিনি পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসন বিদ্যানিকেতনের “মুজিব বর্ষ ভবন” এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে বরগুনায় এসে সন্ধ্যার দিকে সৌন্দর্য বর্ধন এবং সংস্কার কাজেরো উদ্বোধন করেন। রাতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বরগুনা ইকো-ট্যুরিজম ও সুনীল অর্থনীতির সমস্যা ও সম্ভাবনা প্রেক্ষিত বিষয়ে সার্কিট হাউজে এক মতবিনিময় সভা করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তিনি বরগুনা কালেক্টরেট স্কুলের ভবন ৭১’র উদ্বোধন করেন। এসময় বিভিন্ন ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপন করেছেন। এর পরপরই দেশের প্রথম হতে যাওয়া বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতি সংলগ্ন “বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর” এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন শেষে বরগুনা পৌরসভা, পৌর ইউনিয়ন ভূমি দপ্তর, সদর উপজেলাধীন একটি আশ্রয়ন প্রকল্প, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এল,এ শাখা, একটি ইনোভেশন কার্যক্রম ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত পরিদর্শণ করেন। সবশেষে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হল রুমে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ’র সভাপিতত্বে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বয়:সন্ধিকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ মডিউল ‘নন্দিনী’ নামের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় ‘নন্দিনী’ হাইজিন কর্ণার সম্পর্কে সকলের সামনে উপস্থাপন করেন ডিকেপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা হেলাল।

বাংলাদেশের মধ্যে এই প্রথম বিরল দৃষ্টান্ত রখতে যাচ্ছে হারিয়ে যাওয়া ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের নৌকা জাদুঘর স্থাপনের মধ্য দিয়ে বরগুনা জেলা। যে জাদুঘরটিতে স্থান পাবে ১০০ শ’ ধরণের হারিয়ে যাওয়া নৌকা।

বরগুনা জেলা প্রশাসক ও নৌকা জাদুঘর স্থাপনের উদ্যোক্তা মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, এক সময় দেশে হরেক রকমের নৌকা ছিলো। যা মানুষের চলার একমাত্র বাহন হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। একেকটি নৌকা ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করত। যা আজ বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুন এক অধ্যায়। তবে এই নৌকা জাদুঘরটি যেমন বরগুনা জেলাকে এক ভিন্ন পরিচয় দিবে; তেমনি আগামি প্রজন্ম এর ঐতিহ্য ও নৌকাকেন্দ্রীক সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে স্বক্ষম হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শত বার্ষীকি উপলক্ষ্যে এমন আয়োজন।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. অমিতাভ সরকার বলেন, নৌকা জাদুঘর স্থাপন বাংলাদেশে এই প্রথম। এটি নিশ্চই একটি ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রবণ উদ্যোগ। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্য বহনকারী নৌকা সম্পর্কে জানতে পারবে। সেক্ষেত্রে বরগুনা জেলার এই নৌকা জাদুঘরটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এখানে বিভিন্ন ধরণের নৌকা থাকবে এবং নৌকা নিয়ে গবেষণা হবে।