বরগুনায় ভিজিডি’র তালিকায় নাম থাকলেও চাল না দেয়ার অভিযোগ

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) তালিকায় নাম থাকলেও দুস্থ নারীদের চাল না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার এসব চাল বিতরণ করা হয়েছে। ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় দুস্থ প্রত্যেক নারীকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার হচ্ছে।

সুবিধা বন্ঞ্চিতরা অভিযোগ করেন, বরগুনা সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাদের টাকা না দেয়ার কারণে তালিকায় নাম থাকা সত্বেও আমাদের নামে কার্ড দেয়নি। যারা টাকা দিয়েছে ,তাদের নামে কার্ড দেয়া হয়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের ২৬০ জন ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ নারী রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে ওই ইউনিয়নের ইউপি ভবন এ চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু উপকারভোগী তালিকায় নাম থাকার ১০-১৫ জনের মত দুস্থ নারীকে এই চাল দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সুবিধা বঞ্চিত ওই নারীরা। পাঁচ মাসের চাল বিতরণ করা হয়। এখন পযন্ত অভিযোগকারীরা চাল পায়নি।সুবিধা বঞ্চিত ওই নারীরা অভিযোগ করেছেন, তালিকায় নাম থাকলেও বরগুনা সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাদের কার্ড না দেয়ার কারণে তারা চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কার্ডের মাধ্যমে দুস্থ নারীদের প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। আগামী দুই বছর এই সহায়তার চাল বিতরণ করা হবে। আয়লা পাতাকাটা ইউিনয়েনর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গাবতলা গ্রামের এক উপকোরভোগী জেসমিন নামের বলেন, ভিজিডির তালিকায় আমার নাম থাকলেও আজ (গতকাল) বিতরণ করা চাল আমাকে দেয়া হয়নি। যারা টাকা দিয়েছেন তাদের এই তালিকায় নাম দেয়া হয়েছে এবং চাল ও দেয়া হয়েছে। আমরা টাকা দিতে পারিনি তাই চালও পাইনি।

ওই ওয়ার্ডের আরেক দুস্থনারী মোসা. ফাতিমা বেগম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি কোনো কিছু পাইনি। আমি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অনলাইণে নাম নিবন্ধন করি। ওই নাম যাচাই বাচাই শেষে আমার নাম ওই তালিকায় আসে। আগেও একবার চাল দেয়া হয়েছে, সেময় ও আমাদের চাল দেয়া হয়নি। তখন বলা হয়েছিলো যে কার্ড না অসহায় আমাকে চাল দেয়া হবে না । পরে আবার বিতরণের সময় চাল দেয়া হবে। গতকাল বিতরন করা চালের তালিকায় আমার নাম থাকলেও কার্ড না থাকার অজুকাতে আমাকে চাল দেয়া হয়নি।

বরগুনা সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফরোজা বেগম বলেন, ২০১৭ -১৮-১৯ অর্থ বছরে যারা এই তালিকায় চাল পেয়েছেন তাদের নাম পরির্বতন করে নতুন নাম দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান পনু বলেন, ভিজিডির তালিকায় নাম আছে এমন অনেককেই কার্ড না থাকার কারণে আমরা চাল দিতে পারিনি। বরগুনা সদর উপজেলা মহিলা অধিদপ্তর কাযালয় থেকে কার্ড না দেয়ায় এমনটা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে কত জনকে এই চাল দেয়া হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানান নেই এই চেয়ারম্যানের।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিয়া শারমিন নয়াদিগন্তকে বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে আমরা ব্যবস্থা নেবো।