বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, ট্রাইবুনালে মামলা

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরগুনায় ছুটিতে এসে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা পৌরসভার মেয়রকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

এ মামলার আসামিরা হলেন, বরগুনা সদরের ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামের শাহজালাল, তার বাবা শফিকুল ইসলাম শানু ও মাতা হালিমা বেগম। শাহজালাল সেনাবাহিনীতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আর্মস ডিভিশনে কর্মরত আছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, একই উপজেলার লাকুরতলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক জালাল আহমেদের মেয়ে জান্নাতুল আরফা জেপিকে শাহজালালের সঙ্গে ২০১৫ সালে বিয়ে দেয়া হয়। তাদের একটি ছয় বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। শাহজালাল একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য জেপির কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন করে আসছে।

শাহজালাল ২৯ আগস্ট ছুটিতে বাড়ি এসে তার স্ত্রীর কাছে আবারো দুই লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে নির্যাতন শুরু করে। ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় শাহজালাল ও তার মা-বাবা আবারো দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। জেপি যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে শাহজালাল ও তার মা-বাবা একত্রিত হয়ে জেপিকে মারধর করেন।

জেপি বলেন, আমার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি দুই লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে আমাকে মারধর করে ঘরে আটকে রাখে। আমি বাবাকে ফোন করলে আমাকে উদ্ধার করে বরগুনা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়। পর দিন বরগুনা থানায় আমি মামলা করতে গেলে থানার ওসি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।

জেপির আরো অভিযোগ করে বলেন , আমি যখন ঢাকায় ছিলাম তখনো শাহজালাল যৌতুকের দাবিতে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করত। শাহজালালের অত্যাচারে আমার সমস্ত শরীর ক্ষতবিক্ষত। কাউকে দেখাতে পারছি না।

অভিযুক্ত শাহজালাল বলেন, আমি দাদির মৃত্যুতে ছুটিতে বাড়ি আসার পর আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়নি। জেপি থাকে তার বাবার বাড়িতে। আমি কোনো যৌতুক দাবি করিনি।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে বরগুনা থানায় কেউ মামলা করতে আসেননি। মামলা করতে এলে অবশ্যই আমি মামলা গ্রহন করে নিতাম।