বরিশালের শয্যাশায়ী ভাষাসৈনিকের পাশে জেলা প্রশাসক

রূপালী ডেস্ক।।
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে বরিশালের ভাষাসৈনিক ইউসুফ হোসেন কালুর বাসায় গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫ টায় নগরীর বগুড়া রোড, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন খন্দকার বাড়িতে যান তিনি। এ সময় মাহান এই ভাষাসৈনিকের খোঁজ খবর নেন এবং পরে তার অনুভুতি নিয়ে ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দেন জেলা প্রশাসক।

রূপালী বার্তার পাঠকদের জন্য জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার-এর দেয়া সেই লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। বাঙালির সংস্কৃতির ও মননের প্রতীক ভাষার দাবিতে ১৯৫২ সালে পুরো মাসই ছিল আন্দোলনে উত্তাল। তাই ফেব্রুয়ারির প্রতিটি দিনই বাঙালি জাতির জন্য অহঙ্কার আর গৌরবের দিন। গৌরবময় চিরভাস্বর দিনগুলো যাদের জন্য ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে আছে তাদের একজন বরিশালের ভাষাসৈনিক ইউসুফ হোসেন কালু। ভাষা আন্দোলনের তখনকার যুবক আজ ৯৫ বছরের বৃদ্ধ আর শারীরিক অসুস্থতা তাকে শয্যাশায়ী করেছে।

২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে আমার নিজ উদ্যোগে আজ ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকাল ৫ টায় নগরীর বগুড়া রোড, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন খন্দকার বাড়ির গলিতে জেলা প্রশাসনের বিশেষ সম্মাননা এবং তার খোঁজ খবর নিতে ভাষা সৈনিক ইউসুফ হোসেন কালুর বাড়িতে ছুটে গিয়েছি।

এসময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ফলমূল এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করেছি। এ সময় তিনি ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি শাসকদের বাংলা ভাষা, সংস্কৃতির প্রতি বিরূপ আচরণ, তিনিসহ বরিশালে অন্যান্য যে সকল ব্যক্তি বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন তাদের এবং সে সময়ের সংগ্রামী দিনগুলোর কথা ব্যক্ত করেছেন।

আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সকল বীর ভাষা শহীদ, তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ সকল ভাষাসৈনিকদের যাদের ত্যাগ, সংগ্রামের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলা ভাষার অধিকার।