বরিশালে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার-২

রূপালী ডেস্ক।।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের সোনাপুরা গ্রামে ১৯ মার্চ গভীর রাতে হামলা চালিয়ে রবিউল ইসলাম রনি মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি একই এলাকার ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম মামুন ওরফে হাতকাটা মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৮।

রোববার (০১ মে) বেলা ১২টার দিকে বরিশালের রূপাতলীস্থ র‌্যাব-৮ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক জামিল হাসান।

গত ১৯ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের সোনাপুরা গ্রামে পূর্ব শত্রতার জের ধরে বসতবাড়িতে ঢুকে বেধরক কুপিয়ে জখম করা হয় রবিউল ইসলাম রনি মোল্লা (৩০) এবং তার দুই ভাই শহিদুল ইসলাম ওরফে সোহেল (২৫) ও তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌকিরকে (২২)। এরপর এই তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্পিডবোটে করে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে রবিউল ইসলাম ওরফে রনি মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। তার দুই ভাই সংকটাপন্ন অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত এবং আহতরা সোনাপুরা গ্রামের ইয়াসিন মোল্লার ছেলে। রবিউল মারা যাওয়ার পর তার বাবা মো. ইয়াছিন মোল্লা ২১ এপ্রিল বাকেরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয় ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মামুন ওরফে হাতকাটা মামুনকে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৮ অধিনায়ক বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই রবিউল ইসলাম রনি মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ১১ দিনের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলাম মামুন ওরফে হাতকাটা মামুনকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ৩০ এপ্রিল রাতে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এসময় জহিরুলের সহযোগী একই এলাকার আবদুর রবকেও (৩৫) গ্রেপ্তার করা করা হয়। আবদুর রব হাতকাটা মামুনের চাচাত ভাই।

অধিনায়ক জামিল হাসান বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সংশ্লিষ্টতার জেরে ১৯ এপ্রিল রাতে বাকেরগঞ্জের সোনাপুরা গ্রামের রবিউল ইসলাম ও তার দুই ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম মামুন ও তার সহযোগীরা। পরে রবিউল ইসলাম রনি ওই রাতেই শেবাচিম হাসপাতালে মারা যান।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামি ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে বাকেরগঞ্জ ও বিভিন্ন থানায় ২২টি মামলা রয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার অপর আসামি আবদুর রবের বিরুদ্ধেও ২টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের রোববারই বাকেরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হবে।