বরিশালে হাতকড়া পরিয়ে যুবককে নির্যাতন: মাদকদ্রব্যের সেই পরিদর্শক ক্লোজড

অনলাইন ডেস্ক।।
বহুমুখী অপরাধে সম্পৃক্ত বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মালেক তালুকদারকে শাস্তিমূলক প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। আগামী ১৪ মার্চে মধ্যে তাকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকার উপ-পরিচালকের (প্রশাসন) কাছে তাকে রিপোর্ট করতে করেছে কর্তৃপক্ষ। বরিশাল শহরের স্থানীয় এক যুবককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো, স্বীকারোক্তি আদায় এবং নির্যাতনের একটি ভিডিও প্রকাশ পেলে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়টি ফলাও করে প্রকাশ পেলে নড়েচড়ে বসে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে বৃহস্পতিবার তার শাস্তিমূলক বদলি সংক্রান্ত একটি আদেশ বরিশাল অফিসে এসেছে। ১১ মার্চ দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বারের পক্ষে উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মামুন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে বরিশাল থেকে সরিয়ে ঢাকার প্রধান কার্যালয় সংযুক্ত করার আদেশ আসে। ঢাকা ও বরিশাল অফিসের দুটি সূত্র পরিদর্শক মালেককে বদলির বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, পরিদর্শক মালেক মারুফ সিকদার (২০) নামের এক যুবককে মাদকে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ধরে নিয়ে যায়। এবং জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকারোক্তি নিতে হাতকড়া পরিয়ে ভাটিখানাস্থ মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিসের একটি গোপন কক্ষে আটকে রোমহর্ষক নির্যাতন করে। পরবর্তীতে সেই মামলায় যুবক ১৫দিন জেল খেটে বের হলেও পাশ থেকে কেউ নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে।

সেই নির্যাতনের ভিডিও দুদিন পূর্বে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশ পায়, এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্মদিলে একদিন বাদে বিষয়টি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকগুলোতে শিরোনামে স্থান করে নেয়।

এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে আসলে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির তদন্তের মাঝেই আজ বৃহস্পতিবার পরিদর্শকের বদলি আদেশ আসল।

একাধিক সূত্র জানায়, নানামুখী অপকর্মের হোতা আব্দুল মালেক এই ঘটনার পূর্বে শহরের ভাটারখাল ও পলাশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপরাধ যুবকদের ধরে নিয়ে মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে নির্যাতন করতো। এবং বড় অংকের আর্থিক রফাদফায় কাউকে ছেড়ে দিতো, আবার বনিবনা না হলে মামলায় জড়িয়ে কাউকে আদালতে চালান করতো।

এমনকি তার রোষানলে পড়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীকে দীর্ঘদিন হয়রানি হতে হয়। সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সে একটি মাদক মামলায় এসএন পলাশ নামের ওই সংবাদকর্মীকে জড়িয়ে দেয়। যদিও এই অভিযোগ আদালতে একপর্যায়ে মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

বরিশাল মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিসের একটি সূত্র জানায়, মাদকসহ ধরা-ছেড়ে আবার নিরাপরাধ কাউকে জড়িয়ে পরিদর্শক মালেক কয়েক বছরে লাখ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিগত সময়ে অফিস অভ্যন্তরে একটা সময়ে কানাঘুষা শুরু হয়েছিল। কিন্তু মালেক দুর্দান্ত প্রতাপশালী এবং তার ওপর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সু-নজর থাকায় পরবর্তীতে কেউ মুখ খোলেনি।

অপর একটি সূত্র জানায়, মারুফ সিকদার নামের এই যুবককে নির্যাতনের পূর্বে তার পরিবারের কাছে মালেক ২০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। সেই টাকা দিতে না পারায় চলে অকথ্য নির্যাতন এবং ইয়াবা হাতে গুঁজে দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ে চেষ্টা। এতে যুবক রাজি না হলে তাকে সর্বশেষ ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করে এবং একটি মামলায় জড়িতে আদালতে প্রেরণ করেছিল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিদর্শকের বদলিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরটির অপরাপর সদস্যদের মাঝেও স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। তাকে বদলি করে তার স্থানে পরিদর্শক মো. মোস্তফা জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্বীকার করলেও বাড়তি কিছু বলতে নারাজ থাকার কথা জানিয়েছেন।

অবশ্য এই দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচারক পরিতোষ কুমার কুন্ডু ইতিপূর্বে পরিদর্শক মালেককে রক্ষায় মিডিয়ার কাছে কৌশলী বক্তব্য দিয়েছে, তার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন।’

সূত্র-বরিশাল টাইমস