‘বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের ওয়ার্ড কমিটিতে বিবাহিত, মাদকাসক্ত ও অযোগ্যরা’

রূপালী ডেস্ক।।
ছাত্রত্বহীন, বিবাহিত, মাদকাসক্ত, অযোগ্য, আওয়ামী লীগ ঘরোনা এজেন্ডদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার মাধ্যমে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসিয়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বরিশাল মহানগরের ১১টি ওয়ার্ডের ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (০৩ ফেব্রয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় সদররোড বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি দলীয় কার্যলয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

তারা বলেন, বরিশাল মহানগরের ওয়ার্ড কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সক্রিয় রাজনীতি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশী নির্যাতনের শিকার, আদর্শবান, যোগ্য, মেধাবী, ত্যাগী ছাত্র নেতাকর্মীদের নাম পাশ কাটানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ত্যাগী ছাত্র নেতারা নিস্ক্রিয় দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি নতুন ঘোষিত কমিটি পূর্ণ সংশোধন করে সৎ যোগ্য, ত্যাগী ও মেধাবীদের দিয়ে পুনরায় কমিটি গঠন করার আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের মধ্যে রিপন সিকদার, হৃদয় রাজ, মো. সাব্বির শেখ, হামিদুল হাসান রাশিক, তারেক রহমান সম্রাট, জাকির তালুকদার, এস.এম আরাফাত রহমান, মোঃ মুন, মোঃ আমানসহ আরো অনেক ছাত্রদল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ্যালেক্স তমাল সরকার বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি বরিশাল মহানগরের ১,৩,৪,৫,৮,৯,১১,১৯,২১,২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডসহ ১১টি ওয়ার্ডে যাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে আওয়ামী ঘরোনা পরিবারের সন্তানসহ মাদকাশক্ত, বিবাহিত, ছাত্রত্বহীন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, একাডেমিক জুনিয়রসহ সম্পূর্ণ অপরিচিত বলে তারা জানান।

এদেরকে পুনঃবিবেচনা করে পুনরায় ঘোষিত কমিটি সংশোধনের মাধ্যমে মহানগর ও কলেজ ছাত্রদলের কার্যক্রমকে সক্রিয় করার দাবি জানান।

অন্যতায় বরিশালে ছাত্রদলের সকল কার্যক্রম নিস্ক্রিয় হয়ে পড়বে বলে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মনে করেন। তারা বলেন- ১নং ওয়ার্ডের আহবায়ক জিহাদকে কখনো আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায়নি।

৩নং ওয়ার্ডের আহবায়ক মোঃ আবু তাহের একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সদস্য সচিব ওয়ার্ড আরিফুল ইসলাম আশিক ছাত্রদলের অপরিচিত মুখ।

৪নং ওয়ার্ডের সদস্য সচিব মোঃ মাহিন ইসলাম মারুফ সে ছাত্রলীগের এজেন্ডসহ বিগত দিনে ছাত্রলীগের ভিতরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

৮নং ওয়ার্ড আহবায়ক আসিফ সিকদার ও সদস্য সচিব তামিম হোসেন দু’জনেই ছাত্রলীগের কর্মী বলে পরিচিত রয়েছে। ৯নং ওয়ার্ড আহবায়ক সুজন খান একজন মাদকাসক্ত ব্যাক্তিসহ তার ছাত্রত্ব নেই।

এ ধরনের অন্য ওয়ার্ডগুলো আহবায়ক সদস্য সচিবদের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তাই অবিলম্বে ঘোষিত কমিটি বাতিল করে সংশোধিত করে পুনরায় ছাত্রদলের কমিটি গঠন করার মাধ্যমে সক্রিয় করে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সংসদ নেতৃবৃন্দ, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছাত্রদলের বরিশাল বিভাগীয় টিম লিডারের প্রতি দাবি জানান।

এ সময় তারা দাবি করেন বর্তমান আহবায়ক কমিটি সংশোধন করা না হলে বরিশাল মহানগরসহ কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যেমন হতাশ হয়ে পড়েছে তেমনি আগামী আন্দোলন-সংগ্রামে এরা থাকবে নিস্ক্রিয়।

উলেখ্য, ইতিপূর্বে বরিশাল সরকারী পলিটেকনিক কলেজ ও বরিশাল সরকারী বিএম কলেজ ছাত্রদল শাখা নেতৃবৃন্দ জেলা ও মহানগর বিএনপি দলীয় কার্যলয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি সংশোধন করা না হলে পদত্যাগ করবে বলে ঘোষনা দেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বরিশাল মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ৭ই জানুয়ারী ছাত্রদলকে সক্রিয় করার জন্য নতুন করে আহবায়ক কমিটি গঠন করার মাধ্যমে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

এব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় ছাত্রদলের টিম লিডার মাহমুদুল হাসান বাপ্পি বলেন, কমিটি গঠনকালে চাওয়া পাওয়া নিয়ে অভিযোগ থাকতে পারে। তবে এব্যাপারে সঠিত তথ্যবিত্ত প্রমানাধি তথ্য আমার কাছে উপস্থাপন করা হলে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং ছাত্রদলের কমিটিতে বিবাহিত,মাদকাশক্ত কেহ থাকতে পারবে বলে জানান।