বাউফল কালাইয়া সাহেদা গফুর ইব্রাহীম হাসপাতালে ভূয়া ডাক্তার দিয়ে প্রসূতি মায়ের অস্রপচার!

এ.এফ.এম রিয়াজ, বাউফল।।
পটুয়াখালীর বাউফলে কালাইয়া সাহেদা- গফুর ইব্রাহীম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক তিনি। নিজেকে পরিচয় দেন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে। তার নাম সুব্রত কুমার মহলদার। রোগীকে তিনি নিজেই অবেদনকারী (অজ্ঞান করা) ইনজেকশন পুশ করে সিজার অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন রোগীকে ব্যবস্থাপত্র। অথচ সুব্রত কুমারের নেই বিএমডিসির (বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউঞ্চিল) রেজিষ্ট্রেশন সনদ। নেই রোগীকে অসাড়করন (অজ্ঞান করার) ইনজেকশন পুশ করার কোন বৈধ প্রশিক্ষন বা সনদ।

সুব্রত কুমার বর্তমানে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া সাহেদা গফুর ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কর্তব্যরত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন ওই হাসপাতালের চিকিৎসক জন ডেভিড রোজারিও।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন কালাইয়া সাহেদা গফুর ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালে নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক দাবী করে যোগদান করেন সুব্রত কুমার। এরপর থেকেই ওই হাসপাতালের গাইনি রোগীদের তিনি নিয়মিত চিকিৎসা এমনকি গর্ভবতি নারীদের সিজারের পূর্বে অসাড়করন ইনজেকশন পুশ করাসহ সিজারিয়ান অপারেশন করেছেন। অথচ সুব্রত কুমারের বিএমডিসির (বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউঞ্চিল) নেই কোন বৈধ সনদ ।

একটি সুত্র জানিয়েছেন, সাহেদা-গফুর-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালে যোগদানের পড় থেকে সুব্রত কুমার কমপক্ষে অর্ধশত গর্ভবতি নারীর সিজারিয়ান অপারেশন করেছেন। এ সকল নারীর অপারেশন করার পূর্বে নিজেই অসাড়করন ইনজেকশন পুশ করেছেন। প্রতি সিজার অপারেশনে শুরু করে ওষুধ, টেষ্টসহ নানা প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিশেষ কমিশন।

সুব্রত কুমার মহলদার বলেন, “কোলকাতার অলটারনেটিভ মেডিকেল কাউন্সিল থেকে ২০০৪ সালে তিনি পাশ করেন। ২০১০ সালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে জেনারেল সার্জারি ও গাইনী এন্ড অবস্ বিষয়ে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন করেন”।

অবেদনকারী কোর্সের কোন সদন না থাকা সত্বেও কোন কোন বৈধতামূলে আপনি রোগীকে অসাড়করনের ইনজেকশনের পুশ করছেন, “এমন প্রশ্নের জবাবে সুব্রত কুমার বলেন, গ্রামে চিকিৎসা করতে হলে সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে হয়। তাতে গ্রামের মানুষ কম খরচে চিকিৎসা সেবা পায়”।

এবিষয়ে টাঙ্গাইল কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মা ও বিশেষজ্ঞ ডা. ফারহানা সিমা বলেন, “এদেরকে বলা হয় অলটারনেটিভ চিকিৎসক। এরা যদি এভাবে গর্ববতী মায়েদের সিজার অপরারেশন করেন তাহলে এর কুফল একটা সময় মা ও শিশু উভয়ের জীবনে প্রভাব পড়ে। যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত”।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, “বিষয়টি জেনে সুব্রত কুমারকে আমার দপ্তরে ডেকে এনে তার কাগজপত্র দেখে জানা গেলো তিনি একজন অলটারনেটিভ (ইউনানী- আর্য়ুবেদিক) চিকিৎসক। তিনি কখনই এলোপথিক ওষুধ ব্যাবস্থাপত্র করতে পারেবেন না। সিজার অপরারেশন করার তো প্রশ্নই আসেনা”।

পটুয়াখালী জেলা সিভিল র্সাজন মো. জাহাঙ্গীর আলম সিপন জানিয়েছেন, “বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউঞ্চিল (বিএমডিসির) সনদ ছাড়া কোন ব্যক্তি নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক দাবী করতে পারে না। আর সিজার করা তো প্রশ্নই আসে না”।

জাহাঙ্গীর আলম অবেদনের ইনজেকশন পুশ করার বিষয়ে বলেন, “এ ধরনের ইনজেকশন পুশ করার ক্ষেত্রে ছয় মাসের প্রশিক্ষন নিয়ে একটি সনদ নিতে হয়। যদি কারো এ ধরনের সনদ না থাকে তাহলে এই ধরনের ইনজেকশন পুশ করার কারো এখতিয়ার নাই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অবহিত করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।