বাকেরগঞ্জে হামলায় আহত যুবলীগ নেতা মামুনকে নেয়া হলো ঢাকায়

অনলাইন ডেস্ক।।
বরিশাল বাকেরগঞ্জের ফরিদপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মামুন ওরফে হাতকাটা মামুনকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় ভাতশালা বাজারের অদূরে একই এলাকার বাসিন্দা সবুজের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এলোপাতারি মামুনকে কোপাতে থাকে। পরে রক্তাক্ত মামুন একপর্যায়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা নিরাপদে পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে এই নৃশংস ঘটনা স্থানীয়রা অনেকে প্রত্যক্ষ করলেও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসার সাহস দেখায়নি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে বরিশালের হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার লক্ষে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আহত যুবলীগ নেতা মামুন ফরিদপুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। স্বজনরা চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, একটি হত্যা মামলার ঘটনা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মামুনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। মামুনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মামুনের ছোট ভাই ফরিদপুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম জানান, জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে আসা গোলাম সরোয়ার সবুজের সঙ্গে একটি হত্যা মামলার ঘটনা নিয়ে তার ভাই মামুনের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ইতিপূর্বে একাধিকবার মামুনের ওপর হামলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন সবুজ। বৃহস্পতিবার বিকেলে মামুন বরিশাল নগর থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলটি ফরিদপুর ইউনিয়নের ভাতশালা বাজার এলাকায় পৌঁছালে সবুজের নেতৃত্বে বারেক মোল্লা, মহিউদ্দিন মোল্লা, সোহেল মোল্লা, রনি মোল্লা, মানিক মোল্লাসহ অন্যান্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মামুনকে আহত করেন। খবর পেয়ে তাকে বাঁচাতে গেলে তার বাবা আবদুল মালেক হাওলাদারকেও কুপিয়ে আহত করে হামলাকারীরা।

শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাজিবুল হক জানান, সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কমপক্ষে ১৯টি আঘাতের ক্ষত রয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম জানান, গোলাম সরোয়ার সবুজ ও ইউপি সদস্য মামুনের মধ্যে পুরনো বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে সবুজের নেতৃত্বে মামুনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।