বামনায় জনসংযোগে হামলা-সংঘর্ষে প্রার্থীসহ আহত-৯

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরগুনার বামনা উপজেলার বামনা সদর ইউনিয়নে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে জনসংযোগে দফায়-দফায় সংঘর্ষে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল সিকদারসহ ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছে। সোমবার (২২ মার্চ) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের সময় প্রথমে উপজেলা শহরের গোলচত্ত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এর পরে একই ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল চত্ত্বরে দ্বিতীয় দফায় উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আহতরা হলেন, নৌকা মার্কার সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ আকন (৪৫), ছাত্রলীগ সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়া গোলদার (২৫), মুরাদ খান (৪০), মো. শিমুল (৩৫) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তরিকুজ্জামান সোহাগ (৩৮), ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পদক মো. আকাশ জমাদ্দার (২১) ও আল- আমীন হাওলাদার (২৮), শাহীন লশকর (৩৮),স্বতন্ত্রপ্রার্থী সোহেল সিকদার (৪০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার গোলচত্ত্বরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চৌধূরী কামরুজ্জামান সগির নেতাকর্মীদের নিয়ে গনসংযোগ করার সময় দুই স্বতন্ত্রপ্রার্থীর সমর্থকদের সাথে কথা কাটাকাটির ঘটনার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় নৌকার সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তরিকুজ্জামান সোহাগ গুরুতর আহত হয়। নেতাকর্মীদের সহায়তায় গুরুতর আহত দুজনকে বামনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের খোঁজ খবর নিতে সরকার দলীয় প্রার্থী চৌধূরী কামরুজ্জামান সগীর হাসপাতাল চত্ত্বরে যাওয়ার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা উস্কানীমূলক ভাষা ব্যবহার করলে সরকার দলীয় সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর সমর্থকদের ধাওয়া করে। এসময় স্বতন্ত্রপ্রার্থী সোহেল সিকদারকে হাসপাতালে অবরুদ্ধ করে নেতাকর্মীরা। এসময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরো ৫ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়। এঘটনায় বামনায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে ৪ নং ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মদিনা বাজার নামকস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমানের নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বামনা থানার অফিসার ইন চার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। বর্তমানে হাসপাতাল চত্ত্বরে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি, অভিযোগ পেতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।