বামনায় নৌকায় ভোট না দেয়ায় নির্যাতন: পুলিশ পাহারায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরগুনার বামনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জমাদ্দারের হাতে নির্যাতনের শিকার নরসুন্দর অসীম চন্দ্র শীল ঘটনার ১০ দিন পরে পুলিশ পাহারায় অবশেষে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদী একই ইউনিয়নের গোলাঘাটা গ্রামের বিমল চন্দ্র শীলের ছেলে।

বুধবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১জন নামীয় ও আরো ২০/২৫ জনের অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। নম্বর ৭/২০২১।

আসামীরা হলেন- বামনা উপজেলার ৩নং রামনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো: নজরুল ইসলাম জমাদ্দার (৪৫), মো. ফরিদ (৩৫), বাপ্পি জমাদ্দার (৪২), রাজু জমাদ্দার (৪০), রিপন সিকদার (৪২), মো. ফোরকান (২৫), মো. কালাম (৪০), নির্মল চন্দ্র দাস (৪০), নান্না গাজীন(৪০), তপন সিকদার (৩২) ও খোকন মিস্ত্রী (৩২)।

এর আগে গত ২৬ জুলাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও নির্যাতিতদের খোঁজ-খবর নিতে বরগুনা পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর মল্লিকসহ পুলিশের উর্দ্ধতন একটি টিম রামনায় আসেন। পরে পুলিশের পাহারায় নির্যাতনের শিকার অসীম চন্দ্র শীল ও কমল জোমাদ্দারকে বরগুনায় নিয়ে তাদের পছন্দের আইনজীবীকে দিয়ে মামলা লেখানো হয়। সেখান থেকে পুলিশের পাহারায় আবার তাদের বামনা থানায় নিয়ে আসা হয় এবং গভীর রাতে বামনা থানায় মামলাটি এজহারভুক্ত করা হয়।

অসীম চন্দ্র শীল বলেন, ইউপি নির্বাচনে আমি ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আ. খালেক জমাদ্দারের কর্মী ছিলাম। নির্বাচনে আমার প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জমাদ্দার আমাকে এলাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকী দেয়। ঘটনার দিন ১৭ জুলাই চেয়ারম্যানের এক কর্মী আমাদের এক ছোট ভাইকে মারধর করে। আমরা বিষয়টি তাকে জানাতে রামনা বৈকালীন বাজারে যাই। আমরা তাঁর কাছে যাওয়ার সাথে সাথে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে হামলা চালায় চেয়ারম্যান অনুসারিরা। হামলায় আমার মাথা ফেটে যায়। পরে আমাকে স্থানীয়রা বাজারের আর এন ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানের চিকিৎসকরা আমার মাথায় সেলাই দিয়ে ব্যান্ডেজ করার সাথে সাথে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জমাদ্দার তীব্র বেগে ছুটে এসে আমাকে হাসপাতালের বেড থেকে টেনে হিচড়ে রাস্তায় নিয়ে আসে। সেখানে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জমাদ্দারসহ তার গ্যাং বাহিনীরা আমাকে লোহার পাইপ দিয়ে পেটতে থাকে। তখন ঘটনাস্থলে বামনা থানা পুলিশও উপস্থিত ছিলো। পরে উত্তেজিত চেয়ারম্যান বাহিনী আমার বাবার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বামনা থানার এস আই অসীম চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, রাতে মামলাটি আমি হাতে পেয়েছি। ঝড়ো হাওয়ায় বিদ্যুত না থাকায় অনেক কাগজপত্র তৈরী করা বাকি রয়েছে।

বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ বশিরুল আলম বলেন, অসীম চন্দ্র শীল বাদী হয়ে রামনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম জমাদ্দারসহ ১১জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে বরগুনা পুলিশ সুপার মো: জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, এ ঘটনায় আহতদের সাথে কথা বলে মামলাটি এজাহার করা হয়েছে ।