বামনায় শ্বশুরের বিরুদ্ধে জামাইর গোডাউন লুটের অভিযোগ, জালিয়াতি মামলায় স্ত্রী কারাগারে

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বামনায় জামাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পন্য লুটের অভিযোগ উঠেছে শশুরের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) রাতে বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। এর পরের দিন সকালে বামনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবু সালেহ। এ বিষয়টি রবিবার (০১ মে) সকালে নিশ্চিত করেছেন বামনা থানার ওসি বশিরুল আলম। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবু সালেহ বামনার খুচনীচোরা গ্রামের মৃত কাদের হাওলাদারের ছেলে। তার শশুর অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান খান একই এলাকার ছোনবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে নাজমা আক্তারের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে নিয়ে হয় আবু সালেহর। আবু সালেহ পেশায় একজন রড-সিমেন্ট ও স্যানিটারী মালামালের ব্যবসায়ী। বিয়ের কয়েকবছর পর শশুরের কাছ থেকে ছোনবুনিয়া এলাকায় ৬ শতাংশ জমি কিনে শশুরের সাথে যৌথভাবে একটি বিল্ডিং নির্মান করেন। এরপর তারা একসাথে সেখানে বসবাস করতে থাকেন এবং বিল্ডিং এর নিচ তলায় গোডাউন বানান আবু সালেহ। এরপর স্ত্রী নাজমার ও শশুরবাড়ির লোকজনের সাথে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয় সালেহর। একারনে গোডাউন থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার রড-সিমেন্ট ও হার্ডওয়্যার-সেনিটারী মালামাল লুট করেন শশুর সিদ্দিক।

ভুক্তভোগী আবু সালেহ আরো বলেন, আমার স্ত্রী বাজে স্বভাবের। সে তার বাবার কুপরামর্শে আমার সাথে ঝামেলা করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় আমার গোডাউনের ভেতরের দরজা ভেঙে ৮ টন রড, ৯০০ বস্তা সিমেন্টসহ ৩৫-৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এর সাথে জড়িত সকলের বিচার চাই আমি।

অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। আবু সালেহর মালামাল লুট হয়েছে কিনা তা আমি জানিনা।

এ বিষয়ে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বশিরুল আলম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সিদ্দিকুর রহমান খানের মেয়ে আবু সালেহর স্ত্রী নাজমা অপর একটি জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছে, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।