বামনায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অশ্লীল নৃত্যের ভিডিও ভাইরাল

গোলাম কিবরিয়া ও জহিরুল আলম রুমি।।
মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গভীর রাতে বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার গোলাঘাটা গ্রামে অশ্লীল নৃত্য ও যাত্রাপালার আয়োজন করেছে স্থানীয় যুবসমাজ। এই যাত্রাপালায় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান, বামনা থানার এসআইসহ বামনা উপজেলার শীর্ষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। স্বাধীনতা দিবসের রাতে এমন অশ্লীল যাত্রাপালা আয়োজনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে রবিবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানের অশ্লীল নৃত্যের বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওর একটি অংশে বামনা থানার এসআই আবদুল জলিল শেখ কে দর্শকের সাথে আনন্দ করতে দেখা যায়, যার সমালোচনা চলছে ফেইসবুক জুড়ে।

জানা যায়, শনিবার ২৬ মার্চ দিবগত গভীর রাতে বামনা উপজেলার গোলাঘাটা পাকাপুলঘাটা এলাকায় স্থানীয় যুবসমাজের ব্যানারে ‘কাজল রেখা’ যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়। রাত ১২টার পরে শুরু হয়ে এই যাত্রাপালা চলে ভোর রাত পর্যন্ত। তবে অভিযোগ রয়েছে স্বাধীনতা দিবসের রাতে ওই যাত্রাপালায় অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করা হয়েছে। সেই অশ্লীল যাত্রাপালায় শুরু থেকে স্থানীয় রামনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বামনা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন, বামনা থানার এসআই আবদুল জলিল শেখসহ জনপ্রতিনিধিরা।

স্বাধীনতা দিবসের রাতে এমন অশ্লীল নৃত্যের অনুমোতি প্রদান এবং সে অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও পুলিশের সরব উপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

বামনা উপজেলা সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক রতন মালাকর বলেন, স্বাধীনতা দিবসের রাতে এমন অশ্লীল যাত্রাপালা মোটেও কাম্য নয়। এতে যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঘটবে।

বামনা উপজেলা সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহবায়ক ওবায়দুল কবির আকন্দ দুলাল বলেন, আমরা এ বছর স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী উদযাপন করছে। এমন শুভ দিনে জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করবে। অথচ বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নে এমন অশ্লীল যাত্রাপালা অশোভনীয়। আর এই যাত্রাপালা আয়োজনে যারা অনুমতি প্রদান করছেন এবং উপস্থিত ছিলেন তারা যুবসমাজ ধংসের সাথে সরাসরি জড়িত।

বামনা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, আমি আমন্ত্রন পেয়ে ওই যাত্রাপালায় গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে অশ্লীলতা থাকায় আমি চলে আসছি।

বামনা থানার পরিদর্শক আবদুল জলিল শেখ বলেন, আমি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। দর্শক ধরে রাখতে নাটকের ফাঁকে ফাঁকে তারা নৃত্য প্রদর্শন করেছে। কিছুটা অশ্লীলতা থাকায় আমি তাদের নাচ বন্ধ করতে বলে চলে এসেছি।

বামনা থানার ওসি মো. বশিরুল আলম বলেন, গোলাঘাটা গ্রামে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নাটক হবে মর্মে আমার কাছ থেকে মৌখিক অনুমোতি নিয়েছে। তবে আমি জানতাম না সেখানে তারা অশ্লীল যাত্রাপালা করবে।

রামনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জমাদ্দার বলেন, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্থানীয় যুবসমাজ। আমি কিছুসময় সেখানে ছিলাম। আমি থাকা অবস্থায় কোন তেমন অশ্লীলতা পাইনি।

এ বিষয়ে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সরকার বলেন, স্বাধীনতা দিবসের রাতে বামনা উপজেলায় এমন যাত্রাপালা আয়োজনের বিষয়ে আমি আদৌ জানিনা। আমার কাছে কেউ এ বিষয়ে অনুমোতি চাইতেও আসেনি। ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।