বিএনপির গণসমাবেশ: তৃনমূল থেকে আসতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মীরা

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরিশালে বিভাগীয় গণ-সমাবেশের দুই দিন আগে থেকেই বরিশালে আসতে শুরু করেছেন তৃনমূলের নেতা-কর্মীরা। উপকূলের গণপরিবহণ বন্ধের কারনে দুর্ভোগ এড়াতেই এই কৌশল অবলম্বন করছেন বিএনপি। বুধবার নগরে বিভিন্ন স্থানে দক্ষিণ উপকূলের বরগুনা,বেতাগী,বামনা,আমতলী,তালতলী ও পাথরঘাটা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার অনেকেই বরিশালে এসে পৌঁছেছেন।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানান, পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে সমাবেশে আসতে যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্যে কর্মী-সমর্থকদের ২/৩ দিন আগেই আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই তারা বরিশালে আসতে শুরু করেছেন। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সিংহভাগ নেতাকর্মীও ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছেন।

নগরীর দুটি বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি লঞ্চ-বাসে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ বোঝাই হয়ে আসছে মানুষ। তাদের একটি বড় অংশ সমাবেশের উদ্দেশ্যে আসছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুপুরে নগরীর সদর রোডে বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শত শত নেতাকর্মীর উপস্থিতি চোখে পড়ে। বরিশালের ৬ জেলা আর ৪২ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে মানুষ।
বামনার আবদুল জলিল বলেন,বৃহস্পতিবার লঞ্চ ও বাসে ভিড় আরও বাড়বে। শুক্রবার থেকে তো সবই বন্ধ। তাই আগে ভাগেই চলে এসেছি। আমাদের এলাকার অনেকেই এসেছে। সবাই আছে বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়স্বজনের বাসায়।

বরগুনার আলম মাঝি বলেন, বৃহস্পতিবার অনেকেই এসে পৌঁছেছে। বাকিরা কাল আসবে। সমাবেশে যোগ দিতে পাথরঘাটা থেকেই বরিশালে আসার কথা রয়েছে দুই হাজার নেতাকর্মীর।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, অন্যান্য বিভাগে অনুষ্ঠিত সমাবেশের তুলনায় এখানে অনেক বেশি বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। খুলনা-রংপুরে সমাবেশের সময় কেবল বাস আর লঞ্চ বন্ধ থাকলেও থ্রি-হুইলার কিংবা রিকশা করে আসতে পেরেছে মানুষ। বরিশালে থ্রি-হুইলার চলাচলও বন্ধ থাকবে দুদিন। স্থানীয় লঞ্চ মালিক সমিতির অফিসে গেছে অভ্যন্তরীণ রুটের সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ। বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চও।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা। ৫ নভেম্বর বিএনপি দেখিয়ে দেবে জনসমুদ্র কাকে বলে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি সহসম্পাদক শ্রম ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা বলেন, বাধা যে আসবে, তা আমরা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছি। তাই জনসমাবেশে লোকসমাগম প্রশ্নে নেওয়া হয়েছে ভিন্ন কৌশল। অপরাজনীতিকে সঠিক রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা করব আমরা।