বিদ্রোহীরা নৌকার গলার কাঁটা

এইচ,এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ইউপিতে রয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। উপজেলা ধুলাসার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোয়নপত্র নিয়েছেন ৬জন। বিদ্রোহীদের অভিযোগ – আমরা যোগ্য প্রার্থীরা স্থানীয় নেতার কারনে বঞ্চিত হয়েছি। এক প্রভাবশালী নেতার হস্তক্ষেপে ৫ মে ধুলাসার ইউনিয়ন কমিটির কাউন্সিলের ভোটে সে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হলেও ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে একাট্রা হয়েছে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা। তারা স্বতন্ত্র নির্বাচনেরও ঘোষণা দিয়েছেন ও বিদ্রোহী প্রাথী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ জুন ধুলাসার ইউপিতে ভোট। এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা ভোটের মাঠে নেই। এতে একচেটিয়া আওয়ামী লীগের নেতারা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। উল্লেখ্য ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রাথী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন। অপর দিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর হযরত পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী দিয়েছে। এ দিকে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা ভোঠের মাঠে না থাকলে ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার আবদুর রশিদ বলেন, এ উপজেলা ধুলাসার ইউনিয়নে ৬জন একচেটিয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন নৌকার প্রার্থী হলেন মুদাচ্ছের হাওলাদার, বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন- শাহরিয়ার সবুজ, মো.মাহবুবুর রহমান, মনিরুজ্জামান, ডা. ইয়াকুব খান, উম্মে হাফসা রিপা প্রার্থী হয়েছেন।

ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৯ মে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৬ মে এবং ১৫ জুন ইভিএম মেশিনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৬ ভোট।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহরিয়ার সবুজ বলেন, আমি আরো দু,বার মনোনয়ন চেয়ে ছিলাম। কিন্তু দল থেকে আমাতে মনোনয়ন দেয়নি। এ বছর আমার সিদ্বান্ত নয়, জনগনের সিদ্বান্ত নির্বাচনে আসছি। ইনশাল্লাহ বিজয় হতে পারলে এলাকার সন্ত্রাস ও শালিস বানিজ্য আমার কাছে কোন আশ্রয় পাবেনা।

এ ব্যাপারে মোদাচ্ছের হাওলাদার বলেন, আমি নির্বাচিত হতে পারলে সব ধরনের ধাক্কা সামলে জনগনকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। জনস্বার্থে আদর্শ বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। এলাকার সন্ত্রাস ও শালিস বানিজ্য আমার কাছে কোন আশ্রয় পাবেনা।

কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মো.আ.মোতালেব তালুকদার বলেন, আমি তাদেরকে বলছি মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা বলছি কিন্তু তারা প্রত্যাহার করেননি। দলের সিদ্ধান্ত বাহিরে গেলে তাদের প্রতি দলকে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাদের বলা হয়েছে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার সাথে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে যদি কেউ যদি দলের সিদ্বান্তের বাহিরে নির্বাচন করে তা হলে দলের সিদ্ধান্ত ক্রমে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হবে।