বিল্ডিং দেয়ার কথা বলে লঞ্চের কেবিনে নিয়ে কাজীরহাটের তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ

রূপালী বার্তা॥
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট থানাধীন ভাষানচর লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী রাজহংস-১০ লঞ্চের কেবিনে নিয়ে এক তরুণীকে মাইদুল ওরফে মাসুম নামের যুবক রাতভর ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে রোববার (৩০ মে) সকালে তরণীকে ঢাকার টার্মিনালে ফেলে যুবক মাসুম পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর তরুণী সোমবার এলাকায় ফিরে মাসুমের বিরুদ্ধ থানায় অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, কাজীরহাট থানাধীন বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের মাধবরায় গ্রামের খলিল হাওলাদারের ছেলে মাইদুল ওরফে মাসুম। আর ওই তরূণীও একই গ্রামের।

অভিযোগে তরুণী জানিয়েছেন, গত শনিবার (২৯ মে) রাতে বড় বোন তাকে হিজলা থেকে রাজহংস-১০ লঞ্চে তুলে দেন। ওই দিন একই এলাকার মাসুমও ঢাকায় যাচ্ছিলেন। তখন মাসুমকে দেখতে পেয়ে বড় বোন ওই তরুণীর প্রতি খেয়াল রাখতে বলেন। কিন্তু লঞ্চ ছাড়ার পর গভীর রাতে মাসুম এসে ডেক থেকে তরুণীকে বিছানাসহ কেবিনে নিয়ে যায়।

সেখানে আলাপচারিতার একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিং তার নামে লিখে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এতেও রাজি না হওয়ায় ওই তরুণীকে জোর-জবরদস্তি শুরু করে মাসুম। পরে জোর করে রাতে কয়েক দফা তরুণীকে লঞ্চের কেবিনে মাসুম ধর্ষণ করে। তরুণী কান্নাকাটি করলে তাকে গ্রামে গিয়ে বিয়ে করার ফের প্রস্তাব দিলেও রোববার সকালে লঞ্চটি ঢাকায় পৌছালে মাসুম লাপাত্ত হয়ে যায়।

তরুণীর অভিযোগের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তরুণী গ্রামে ফিরে আসে এবং সোমবার (৩১ মে) থানায় একটি অভিযোগ করেন।

তরুণী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, গ্রামে ফিরে মাইদুলের বাসায় গিয়ে তার বাবা খলিল হাওলাদারকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি সব শুনে চুপ থাকতে বলেন এবং ধর্ষণের সাজা হিসেবে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তাড়িয়ে দেন।

কাজীরহাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে মাইদুল স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মুঠোফোনে জানিয়েছেন, সেই রাতে তরুণী তার কেবিনে থাকলেও আলাপচারিতা ব্যতিত কিছু হয়নি।