বিষাদের সুরে চন্দ্রকান্তা

বিষাদের সুরে চন্দ্রকান্তা
-নিবেদিতা দাস

বহুকাল পরে তুমি আবারও বসন্ত।
নক্ষত্রের দেশের আলো তুমি
তুমি পূর্ণিমার পরিপূর্ণতা,
তুমি চন্দ্রকান্ত।

নীল আকাশের পারে তোমার ঠিকানা –
আমি আবারও এসেছি
অমাবস্যার অন্ধকার গ্রাস করেছিল আমাকে বারংবার;
হটাৎ কোনো জ্যোৎস্নার আলো আমাকে প্লাবিত করেছে,
তাইতো আমি আবারও চন্দ্রকান্তা।

শরতের শিউলির ঘ্রান, বিন্দু বিন্দু কুয়াশা
গিরিকন্যার আবির্ভাব আকাশে সাদা মেঘের ভেলা,
আর আমি অপেক্ষায় চন্দ্রকান্তা।

সাজো সাজো রব আগমনীর বার্তা
প্রকৃতি ও আনন্দে মাতোয়ারা।
তুমি চন্দ্রকান্ত, তোমার সৃষ্টিতে আমি অনন্যা;
অমাবস্যার কুজঝটিকা আজ বিলুপ্ত।

চারিদিকে আলোর রোশনাই
নতুন নতুন গন্ধ মায়ের বোধন
আমার চন্দ্রকান্ত ওই দূরের আকাশে-
আমার মুখের পানে ঝরে পড়েছে।

আমার মনের ঘরে আজ ও চন্দ্রকান্ত
চারিদিকে ঢাকের আওয়াজ, সুরের খেলা, মিলনের কোলাহল
আবারও বিসর্জন।

আমার চন্দ্রকান্ত আজও দূর আকাশে-
কৈলাশে পাড়ি দিয়েছে মা দূর্গা,
আমি চন্দ্রকান্তা আজও তোমার অপেক্ষায়।

আমি সতী হতে পারিনি চন্দ্রকান্ত !
আমি মহামায়া হয়ে অসুর নিধন করিনি ,
তাইতো আমি তোমার কৈলাশে আবির্ভূতা নই।
তবুও আমি তোমার চন্দ্রকান্তা।

আমার অমাবস্যা তোমার প্রতীক্ষায় ;
চন্দ্রকান্ত আমার নিশিরাতে তুমি এক অন্য জ্যোৎস্না।

চন্দ্রকান্ত তুমি এক নতুন জ্যোৎস্না
চন্দ্রকান্ত আমি তোমার সুরে উন্মনা
তুমি বীর , তুমি মহাবীর তুমি অনন্য সৃষ্টি।

তুমি এক অন্য সুগন্ধ
তুমি এক অন্য উত্তাপ ,
তুমি চন্দ্রকান্ত।

এখানে শেষ নক্ষত্রের আলো-
গভীর অন্ধকার এটাই শেষ তরী
আবারো অমাবস্যা।

নক্ষত্রের দেশে সমস্ত তারারা নিদ্রাগত
আমি চন্দ্রকান্তা তোমার অপেক্ষায়।

আজ ও আকাশে আবির্ভুত আমার চন্দ্রকান্ত
শৈত্য অমাবস্যা তুমি পরাজিত,
চন্দ্রত্তপ্তে তুমি পরাজিত।

আজ মরা বসন্ত
মরা বৃক্ষশাখা
নিহত পলাশরাজা
প্রকৃতি আজ নিস্তব্ধ।
কোথায় তুমি চন্দ্রকান্ত?

এ এক অন্য বসন্ত !
মিলনের সুরে আবারও আকাশে এক চন্দ্রকান্ত।