বেতাগীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা, তলিয়ে গেছে আউশের ক্ষেত

বেতাগী প্রতিনিধি (বরগুনা)।।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরে দমকা দমকা বাতাস ও বর্ষণ এবং পূর্নিমা জোয়ারে উঠতি রবিমৌসুমে শাকসবজিসহ কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আউশ ধানের ক্ষেত। যদি দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে পানিতে ডুবে থাকে তবে আউশ ধানের বীজতলা গুলো নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে ধারণা করছেন কৃষকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বেতাগী উপজেলার ১ টি পৌরসভাসহ ৭টা ইউনিয়নে সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে চাষাবাদ করা হয়। যার মধ্যে ৭৪৫ হেক্টর জমির আউশ ধানের বীজতলা ও সদ্য রোপনকৃত আউশ ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।এছাড়াও ৫২০ হেক্টর শাকসবজি ও ৪৪ হেক্টর বীজ বাদাম, ১০৫ হেক্টর কলা, ১১০ হেক্টর পান, ৫৫ হেক্টর পেঁপে ও ৯০ হেক্টও মরিচ ডুবে আছে পানির নিচে।

উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের চাষী আফজাল হোসেন বলেন,‘আমাদের এইদিক নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বোরো চাষ করা হয় না। শুধু আউশ আর আমন এই দুই ফসলি জমি । এই বন্যায় আউশের ফলন শেষ। কি খাবো, কি করবো কিছু মাথায় আসছে না।’

মরিচ চাষী জগদিশ বলেন,‘বিলে পানির মধ্যে ডুবিয়ে ডুবিয়ে মরিচ উঠাইছি , লাভ তো দূরে থাক নিজেদের খাবার মরিচ হবে কিনা সন্দেহ আছে।সব ফসল নষ্ট হয়ে গেলো।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বীজতলা ও শাক-সবজির ক্ষেতে এক সপ্তাহের বেশি পানি জমে থাকলে ফসলের পঁচন ধরে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য কোর্স সম্পন্নকারী কৃষিবিদ লিটন কুমার ঢালী বলেন,‘রবি মৌসুমের ফসলে এক সপ্তাহের বেশি পানি জমে থাকলে ক্ষতিকর ছত্রাক ও ব্যকটেরিয়ায় আক্রান্ত করে ফসল নষ্ট করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.ইকবাল হোসেন বলেন,‘ইতোমধ্যে এ উপজেলার ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনার উপর প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।কোন সহযোগীতা আসলে কৃষকদের লোকসান লাগবের চেষ্টা করবো।’