ভান্ডারিয়ায় বাবা-মাকে অচেতন করে প্রেমিকের সঙ্গে স্কুলছাত্রী উধাও

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি।।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের ৫ ওয়ার্ডের একই পরিবারের চার সদস্যকে অজ্ঞান করে ১০ম শ্রেনির এক স্কুলছাত্রী একই ইউনিয়নের প্রেমিক সাইফুল হাওলাদারের হাত ধরে উধাও হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪ নম্বর ইকড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইয়াকুব হাওলাদারের ছেলে সাইফুল হাওলাদার (১৯) এর সাথে একই গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী দিলীপ চন্দ্র রায়ের মেয়ে স্থানীয় ইকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণি ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা উভয়েই ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় তাদের প্রেমের সম্পর্ক কেউ মেনে নেয়নি। এক পর্যায়ে শনিবার রাতে মুদি ব্যবসায়ী দিলীপ চন্দ্র রায় প্রতিদিনের ন্যায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যায় এবং রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিতে পড়ে কিন্তু মুদি ব্যবসায়ী দিলীপ চন্দ্র রায় এর স্কুল পড়–য়া নাবালিকা মেয়ে প্রেমিক সাইফুলের পরামর্শে ওই খাবারের সাথে আগে থেকেই অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ মিষিয়ে রাখে।

ওই খাবার খেয়ে বাবা দিলীপ চন্দ্র রায় (৬০), মা ছবি রানী (৫০), বড় ভাই তাপস চন্দ্র রায় (২০), ছোট ভাই অপূর্ব চন্দ্র রায় (১৪) অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এই সুযোগে প্রেমিক প্রেমিকা ঘরের স্টীলের আলমিরা ভেঙ্গে ৭/৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে উধাও হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা ওই পরিবারদের দুপুর পর্যন্ত গভীরঘুমে অচেতন দেখে তাদের জস্বনদের খবর দেয়। খবর পেয়ে স্বজন কমল কৃষ্ম হালদার দুপুর দের টায় দিকে অচেতন পরিবারের সকলকে ভা-ারিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে জানতে চেষ্টা করলে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই হাওলাদার ফোন রিসিভ করেনি এবং সাইফুল উধাও হলেও তার পরিবারের কেউ এ বিষয়ে জানেন না বলে জানান স্থানীয়রা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দিলীপ চন্দ্র রায় একটু সুস্থ্য হলেও বাকিরা অচেতন রয়েছে।

এ বিষয়ে ভা-ারিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কামাল হোসেন মুফতী জানান,একই পরিবারের চার সদস্যকে দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক জন মোটামুটি সুস্থ্য। বাকীদের চিকিৎসা চলছে । তবে ভয়ের কিছু নাই, আশা করি খুব দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠবে।

ভা-ারিয়া থানার অফিসার্স ইন চার্জ মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নাবালিকাকে উদ্ধারের তৎপরতা চলছে এবং মামলা প্রক্রীয়াধীন।