ভারতে করোনার নতুন ধরন নিয়ে সুখবর ও উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
করোনার নতুন ধরন নিয়ে বিপর্যস্ত ভারত। সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সারাদেশে ভয়ঙ্করভাবে এর প্রভাব পড়েছে। এর পেছনে করোনার এ নতুন ধরনটিই ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একটা সুখবর হলো, নতুন ধরনটির বিরুদ্ধেও প্রচলিত টিকা কাজ করছে। একই সঙ্গে খারাপ খবরটাও একদম ফেলে দেয়ার মতো নয়। সেটা হলো, নতুন শনাক্ত করোনার এটাই একমাত্র ধরন বা সংস্করণ নয়। এর আরো নানা ধরন আছে। খবর এনডিটিভি অনলাইনের।

করোনার ভারতীয় ধরনটির নাম দেয়া হয়েছে বি.১.১৬৭। এ ধরনটি অতিমাত্রায় সংক্রামক বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ভারতে করোনা সংক্রমণ আগের চেয়ে দ্রুততর হয়ে ওঠার পেছনে কারণ হিসেবে রয়েছে এ ধরনটিই। করোনাভাইরাসের বৈশিষ্ট্য হলো এটা অবিরাম পরিবর্তনশীল। পরিবর্তিত হয়ে নিজের নতুন নতুন ধরন তৈরি করে। তাই ভারতে করোনার সম্ভাব্য আরও নতুন ধরন দ্রুত চিহ্নিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে ভারতে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে তিনটি কারণের কথা বলেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। তার মধ্যে একটি হলো এর দ্রুত পরিবর্তনশীলতা ও অতিরিক্ত সংক্রমণ ক্ষমতা।

ভারতে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমণের হারে আকাশ পাতাল তারতম্য ধরা পড়েছে। গত মার্চের মাঝামাঝিতে একদিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। এর পর থেকে আচমকা বাড়তে থাকে এর সংখ্যা। ৩ এপ্রিল সংক্রমিতের সংখ্যা দুই কোটির ঘর ছাড়িয়েছে। ৩০ এপ্রিল দেশটিতে একদিনে শনাক্ত হয় চার লাখের বেশি মানুষ। বুধবার শনাক্ত ও মৃত্যুতে নতুনে রেকর্ড হয়েছে। ৪ লাখ ১২ হাজার ২৬২ করোনা রোগী শনাক্তের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৮০ জন মারা যান। এটি নতুন রেকর্ড বলে গণ্য হয়েছে।

করোনার নতুন নতুন ধরনের প্রত্যেকটি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ভারতের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা সীমাবদ্ধতার এই দিকটিকে উদ্বেগজনক বলছেন।

বি.১.১৬৭ ধরনের দ্বিতীয়, এমনকি তৃতীয় প্রজন্মের সংস্করণ এরই মধ্যে ভারতে ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সাবেক অধ্যাপক উইলিয়াম হ্যাসেলটাইন। তার মতে, এগুলো আরো মারাত্মক হতে পারে।