ভেতরে মির্জাগঞ্জ বিএনপি’র নতুন কমিটির পরিচিতি সভা, বাহিরে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ

মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি (পটুয়াখালী)||
মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অপরদিকে এই কমিটিতে যারা স্থান পায়নি, সেই সমস্ত পদবঞ্চিতরা কালো পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

শনিবার (০২ সেপ্টেম্বর ) সকাল ১০ টায় সুবিদখালীস্থ নান্নু শপিং কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে একই সময় পদবঞ্চিতরা সুবিদখালী তিন রাস্তার মোড় বরগুনা -বাকেরগঞ্জ মহাসড়কে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শন করে।

পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবুদ্দিন নান্নুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসাইন ফরাজির সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির প্রমুখ। প্রধান বক্তা ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনু। সভায় উপজেলা বিএনপির নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই মঞ্চের সামনে দাঁড়ানো নিয়ে যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মাঝে হাতাহাতিতে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। হট্টগোলের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয় নেতাকর্মীরা। উপস্থিত নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরে সাংবাদিকরা সভাস্থল ত্যাগ করেন।

অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন মৃধার নেতৃত্বে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শনীতে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোতালেব হোসেন মৃধা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল, মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকার, উপজেলা ওলামা দলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব রাসেল মোল্লা প্রমুখ। এতে বিভিন্ন ইউনিয়নের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিক্ষোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শনীতে বক্তারা বলেন, ‘মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ও টাকার বিনিময় হয়েছে। কমিটিতে অন্য দলের লোকদেরও রাখা হয়েছে। এই কমিটিতে দলের দুর্দিনে যারা কাজ করেছে, যারা হামলা মামলার শিকার হয়েছে, সেইসমস্ত ত্যাগী প্রকৃত লোকদের রাখা হয়নি। যারা দুর্দিনে ছিলো না, যারা বছরের পর বছর এলাকার বাহিরে রয়েছে তাদেরকেও এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি আমরা মানি না। আমরা এই কমিটির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কমিটির বিষয় তদন্ত করে দেখার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতি আহবান জানাই।’

পদবঞ্চিতদের বিষয় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন,’মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটিতে দলের ত্যাগী ও প্রকৃতরা যাতে বাদ না পরে, সেইজন্য দীর্ঘ সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মির্জাগঞ্জে বিএনপিতে প্রচুর মানুষ আছে। সবাইকে এই কমিটিতে স্থান দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং সম্ভবও না। যারা কমিটিতে স্থান পায়নি তাদেরকে সাথে নিয়েই আমরা দলীয় সব কাজকর্ম করবো।’