মঠবাড়িয়ায় আ. লীগের অফিস উদ্বোধন: বোমা হামলায় বড় মাছুয়ায় রণক্ষেত্র

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি, পিরোজপুর।।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার ১১ নং বড় মাছুয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ অফিস উদ্বোধন কালে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান নাসির হোসেন হাওলাদার ও তার সমর্থকরা বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বোমার বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।

পুলিশ খব পেয়ে বিশ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় প্রতিপক্ষরা হামলায় চালিয়ে দলীয় অফিস ভাংচুরসহ অনুষ্ঠান বানচালের চেষ্টা চালায়। এতে ৩জন গুরুতরও আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আহতরা হলো, ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ও বড় মাছুয়া গ্রামের আমীর হোসেন হাওলাদারের পুত্র লোকমান হোসেন হাওলাদার (৪৫), ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বি ঘরামী (২০), ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি মিজান (২০)।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধী ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি লোকমান হোসেন হাওলাদারের অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতেই তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলার ঘটনায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মাইনুল ইসলাম বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ বড়মছুয়া ইউপির বিদ্রোহী চেয়াম্যান নাসির হোসেন হাওলাদকে প্রধান আসামী করে ২৫জন এজাহার নামীয় ও অজ্ঞতনামা ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় বিস্ফোরক আইনে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই রাতেই এজাহার নামীয় বড়মাছুয়া গ্রামের দুলাল হাওলাদারের পুত্র শাকিল (২২), একই গ্রামের কবির হোসেনের পুত্র তামিম (২১) ও জাকির হোসেনের পুত্র মুছা(২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত বড়মাছুয়া ইউপি নির্বাচনে (২০২১) তাঁর বোন আয়শা আক্তার মনি আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। দলীয় মনোনয় না পেয়ে ক্ষতাশীন আওয়ামী লীগের উপর ক্ষুব্ধ হন ইউপি চেয়ারম্যারান নাসির হোসেন। নির্বাচনের পর থেকেইে সন্ত্রসী বাহীনি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মারধর কারাসহ তার অত্যাচারে নৌকা সর্মকদের এলকা ছাড়তে বাদ্য করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বড়মাছুয়া বাজার তলসেট সংলগ্ন ইউনিয় আওয়ামী লীগ অফিস উদ্বোধন উপলক্ষ্যে উপজেলা আ’লীগ সভাপতি রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস, উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান এর নেতৃত্বে দলীয় নেতা কর্মীরা অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হয়। সন্ধ্যার দিকে প্রধান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান নাসির হোসেনের নেতৃত্বে ৪৫/৫০ জনের একটি দল উপস্থিত হয়ে ককটেল বোমা বিস্ফোন ঘটিয়ে দাও, হকিস্টিকসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

ইউপি চেয়ারম্যান নাসির হোসেন হাওলাদার তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সম্পূর্ন মিথ্যা ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে অনুষ্ঠান স্থলে আসা কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা তাঁর সমর্থক লোকমান হোসেনকে বেদরক মারধর করলে তাঁর নেতা কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়। তিনি উল্টো তাঁর প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বড়মাছুয়া মসজিদের গ্যাস ও বৈদ্যুতিক মিটার ভাংচুরের অভিযোগ আনে।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম বাদল মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিশ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আানেন। তিনি আরও বলেন, ওই রাতেই মামলা দায়ের পরে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছ্।